বদলায়নি ঢাকেশ্বরী মন্দির

ঘাটবাঁধানো পুকুরপাড়ে একটি মন্দির। সবুজ গাছপালা চারপাশে। পুকুরে গোসল করছেন কয়েকজন মানুষ। ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে যাঁদের আগ্রহ আছে ১৯০৪ সালে তোলা এই ছবিটি তাঁদের নজর কাড়বে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের এই ছবিটির আলোকচিত্রী ফ্রিজ ক্যাপ। ঢাকার পুরোনো অনেক ছবি তাঁর তোলা। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, ঢাকেশ্বরী শব্দ থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাসের প্রায় সবই কিংবদন্তি। অনেকেই মনে করেন এখানকার দেবী মূর্তিটি মাটিতে ঢাকা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, তাই নাম ঢাকেশ্বরী। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, জনশ্রুতি অনুযায়ী মন্দিরটির নির্মাতা বল্লাল সেন নামের একজন রাজা। তবে এ বল্লাল সেন প্রকৃত অর্থেই সেন বংশের বিখ্যাত রাজা বল্লাল সেন কি না, তা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কেননা সেন রাজবংশের রাজত্বকালে বাংলার স্থাপত্যশিল্পে চুন-বালু মিশ্রণের ব্যবহার ছিল না। কিন্তু ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি চুন-বালুর গাঁথুনিতে নির্মিত। অনেকেই মনে করেন এর নির্মাণশৈলী বৌদ্ধমন্দিরের মতো। কারণ আরাকানি বৌদ্ধমন্দিরের মতো এখানে পুকুর, অশ্বত্থ বৃক্ষ, বাগান, মঠ, পান্থশালা, সন্ন্যাসীর আশ্রম, মণ্ডপ, বারান্দা ইত্যাদি রয়েছে। এফ বি ব্রাডলি বার্ট ১৯০৬ সালে রোমান্স অব অ্যান ইস্টার্ন ক্যাপিটেল নামক গ্রন্থে লিখেছেন, ‘বর্তমান মন্দিরটি ২০০ বছরের পুরোনো ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক হিন্দু এজেন্ট নির্মাণ করেন।’ অবশ্য গত এক শ বছরে মন্দির কমপ্লেক্সটির অনেক সংস্কার হয়েছে। এখানে হিন্দুদের বিয়ে থেকে শুরু করে নানা পূজাপার্বণ হয়।