বনানীতে আগুনে মৃতদের মধ্যে তিনজন চাঁদপুরের, একজনকে কচুয়ায় দাফন

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঁদপুরের তিনজন মারা গেছেন। তাঁদের লাশ পরিবারের লোকজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে কচুয়ায় একজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। বাকিদের লাশ চাঁদপুরে আনা হয়নি।
অগ্নিকাণ্ড মৃত ব্যক্তিরা হলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫নং গুপ্টি ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামের মুন্সি বাড়ির মকবুল আহমেদের ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক (তমাল), মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নাগদা গ্রামের বেনু প্রাধানিয়ার ছেলে রেজাউল করিম (রাজু) ও কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের বাইছারা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আতাউর রহমান। এর মধ্যে শুধু আতাউর রহমানের লাশ চাঁদপুরের কচুয়ায় দাফন করা হয়।
আতাউর রহমান ছেলে এরফানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা বনানীর এফআর টাওয়ারের তৃতীয় তলার হ্যারিটেজ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের সেলসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ছিলেন। ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ভবনের ছাদে চলে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে ছেলে এরফানুরের সঙ্গে তাঁর শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা হয়। শেষ কথায় তিনি দোয়া চেয়েছিলেন সবার কাছে।
শুক্রবার সকালে ঢাকা সিএমএইচ থেকে আতাউরের লাশ গ্রহণ করেন তাঁর দুই ছেলে। পরে দুপুরে কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের বাইছারা গ্রামে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ জুমা বাইছারা বাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে নিজ বাড়ির পারিবারিক গোরস্থানে আতাউর রহমানের লাশ দাফন করা হয়।
নিহতদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। বৃহস্পতিবার আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান বন্ধু মিনহাজ উদ্দিন। আবদুল্লাহ আল ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ২০১১ সালে পাস করেন। তিনি ওই ভবনের ইইউআর বিডি সলিউশনে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। আগুনে তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়।
আবদুল্লাহ আল ফারুকের চাচাতো ভাই সালাহউদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ঢাকার সারুলিয়ায় বসবাস করতেন ফারুক। তিন ভাইয়ের মধ্যে আবদুল্লাহ আল ফারুক দ্বিতীয় ছিলেন। তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।
বনানীর ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা গ্রামের রেজাউল করিম (রাজু)। ওই ভবনের পঞ্চম তলার আসিফ ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন রাজু। ওই ভবনের পাঁচ তলার পুরো প্লটটি কিনে তিনি ব্যবসা চালাতেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে রেজাউল করিম ছিলেন দ্বিতীয়। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বনানীতেই থাকতেন তিনি।
রেজাউল করিমের নিকটাত্মীয় জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই রেজাউল করিমের লাশ গ্রহণ করা হয়। শুক্রবার বাদ জুমা চট্টগ্রামের হালিশহরে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।