
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) বলেছেন, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচারের প্রক্রিয়ায় কারও কোনো ধরনের প্রভাব নেই। গত মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের ডকল্যান্ডের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে আয়োজিত এক ভোজসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিবিসিসিআই) প্রধান বিচারপতির সম্মানে ওই ভোজসভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাংলাদেশে বিচার-প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগের জন্য একটি বড় বাধা। তাঁরা প্রবাসীদের সম্পত্তি দখল ও হয়রানিমূলক মামলার কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, লোকবল ও অবকাঠামোর সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন জানিয়ে এস কে সিনহা বলেন, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।
প্রধান বিচারপতি জানান, ১ নভেম্বর থেকে উচ্চ আদালতের সব কার্যক্রমের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাবে। ফলে মামলার শুনানির তারিখ ও ফলাফল নিয়ে আইন-জীবীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। পর্যায়ক্রমে পুরো বিচারিক কার্যক্রম ডিজিটাল করা হবে।
দুই বছরের মধ্যে সব মামলাজট সুরাহার উদ্যোগ নিয়েছেন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমঝোতার মাধ্যমে সুরাহা করতে চান তিনি। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাতে রাজি না হলে বিচারে পরাজিত পক্ষকে মামলার সব খরচ বহন করতে হবে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান।
বিবিসিসিআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল মুহিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসেন, বিবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহগির বখত ফারুক প্রমুখ।