বাজিতপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও আটজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার দিলালপুরের ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া ও সাবেক চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দিন খান শাফির পক্ষের মধ্যে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মজিবুর রহমান (৬০)। তিনি উপজেলার বাহেরনগর গ্রামের বাসিন্দা ও মিজবাহ উদ্দিনের পক্ষের লোক হিসেবে পরিচিত। মজিবুর বাহেরনগর মধ্যপাড়া জামে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান পক্ষের চান মিয়া, তারা মিয়া ও হুসনে আরা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চান মিয়া ইউনিয়নটির ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় সাবেক চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন বর্তমান চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তার দাবি করে মিছিল করেন। মিছিলটি বাজিতপুর বাজার এলাকা ঘুরে দিলালপুরে ফিরে যায়।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গোলাম কিবরিয়া স্থানীয় সাংসদ আফজাল হোসেনের আপন মামাতো ভাই আর মিজবাহ উদ্দিন সাংসদের আপন ফুফাতো ভাই। গোলাম কিবরিয়া আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে সাংসদের অনুগত হয়ে রাজনীতি করেন। মিজবাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। এক সময় অনুগত থাকলেও মিজবাহ বর্তমানে সাংসদের সুনজরে নেই। সর্বশেষ নির্বাচনে চেয়েও দলীয় সমর্থন পাননি তিনি। নৌকার প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন গোলাম কিবরিয়া। বিদ্রোহী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও জয় পাননি মিজবাহ।
এখন দিলালপুর ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। চলতি বছর ইউপি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন ধারণায় দুই পক্ষের সমর্থকেরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় মিজবাহর পক্ষ আগের দিন গতকাল রোববার বিকেলে স্থানীয় বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দোয়া অনুষ্ঠান শেষে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুরে গোলাম কিবরিয়ার পক্ষ হামলা চালায়। এই সময় প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে মজিবুর ঘটনাস্থলে মারা যান।
মিজবাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘আমার দোয়া মাহফিলে লোক হওয়ার কথা ছিল পাঁচ হাজার। হয়ে গেছে সাত হাজার। এই দেখে গোলাম কিবরিয়ার মাথা নষ্ট। লোকজন ঠেকাতে না পেরে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায় কিবরিয়ার পক্ষ। মজিবুরের মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায় কিবরিয়ার পক্ষ। একই সঙ্গে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও চালানো হয়।’
তবে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘গতকাল আমার পক্ষের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হালিম সিলেট গিয়েছিলেন। ওই দিনই তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। আসার সময় তাঁকে মারধর করে মিজবাহর পক্ষ। বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আজও দুপুরের পর বহিরাগতদের এনে আমার পক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়।’
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বাজিতপুর থানার উপপরিদর্শক হাফিজ উদ্দিন। হাফিজ উদ্দিন বলেন, মূলত বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ হয়েছে।