বিএনপির ছয় প্রার্থীর নামে ১৯ মামলা
নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাতজন প্রার্থী। এর বিপরীতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ১৪ জন। আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর নামে মামলা নেই। তবে বিএনপির ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের নামে আছে ১৯টি মামলা। সব কটি মামলাই রাজনৈতিক বলে দাবি করেছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বর্তমানে বিএনপির ১৩ জন প্রার্থী বৈধ রয়েছেন। প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯টি মামলার মধ্যে ১০টি রয়েছে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটটি এবং দ্রুত বিচার আইনে করা মামলা রয়েছে একটি।
সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে। দ্রুত বিচার আইনে করা একটিসহ তাঁর নামে মোট মামলার সংখ্যা ১১টি। আবদুল মতিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। নওগাঁ-৪ আসনে বিএনপির আরও দুজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন সাবেক সাংসদ সামসুল আলম প্রামাণিক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি একরামুল বারী। তাঁদের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা নেই।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মতিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় করা হয়েছে সাতটি মামলা; খিলগাঁও, তেজগাঁও, রমনা ও শাহবাগ থানায় একটি করে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা তদন্তাধীন। বাকি ১০টি মামলা ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত, ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত ও দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন।
জানতে চাইলে আবদুল মতিন দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলাই রাজনৈতিক। এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই।
মামলার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সাংসদ সামসুজ্জোহা খান। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে পত্নীতলা থানায় করা তিনটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। নওগাঁ-৬ (রানীনগর ও আত্রাই) আসনে বিএনপির দুজন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে। অপর প্রার্থী আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থীর মধ্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় করা একটি মামলা চলমান রয়েছে। অপর প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ খানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মহাদেবপুর থানায় করা একটি মামলা বর্তমানে নওগাঁর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে চলমান রয়েছে।
নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে তিনজনকে। তাঁরা হচ্ছেন সাবেক সাংসদ ছালেক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও পোরশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লায়ন মাসুদ রানা। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
এ বিষয়ে নওগাঁর আইনজীবী মহনসিন রেজা বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হলে ভোটারদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এর বাইরে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা হলে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা যেতে পারে।