বিএনপির নেতাদের গা ঢাকা, প্রচারণার নির্দেশনা ফোনে

একাদশ সংসদ নির্বাচন
একাদশ সংসদ নির্বাচন

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও বিএনপি প্রকাশ্যে মাঠে নেই। বিশেষ করে দুটি মামলায় ছয় দিন আগে বিএনপির ২৫ জন জ্যেষ্ঠ নেতা ফেরার হওয়ায় তাঁরা এখন আর এলাকায় নেই। গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন। ফলে তাঁরা মুঠোফোনে কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।
বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক বলেন, ভোটের দিন এগিয়ে আসছে। এই অবস্থায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নিজ বাড়িতে বা দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করতে পারছেন না। ফলে প্রকাশ্যে নির্দেশনা পাচ্ছেন না। তবে প্রকাশ্যে দেখা না পেলেও মুঠোফোনে তাঁরা নির্দেশনা পাচ্ছেন।
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। তিনি একটি মামলার অভিযুক্ত হিসেবে এখন ফেরার। বৃহস্পতিবার থেকে তিনি এলাকায় নেই।
মুঠোফোনে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলাম। ১২ ডিসেম্বর সময়সীমা শেষ হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী এরপর নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে নতুন করে জামিন আবেদন করার কথা। এ ক্ষেত্রে জামিন দেওয়ার বিষয়ে নিম্ন আদালতকে সহজভাবে বিবেচনার নির্দেশনাও ছিল হাইকোর্টের। কিন্তু আমরা প্রায় নিশ্চিত, এই মুহূর্তে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনটি মাঠে মারা পড়বে। সেই কারণেই নির্বাচনের আগে ঝুঁকি নিতে রাজি হইনি।’
এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির উপসাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিসিবির সভাপতি সাংসদ নাজমুল হাসান। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের ছেলে। শরীফুল আলম এর আগে একবার নাজমুল হাসানের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে হেরে যান।
তিন মাস আগে ঢাকার বিভিন্ন থানায় শরীফুলের বিরুদ্ধে ২৬টি গায়েবি মামলা হয়। নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের জীবন ও সম্পদ বিনষ্টের পরিকল্পনা করার অভিযোগ এনে ২৮ অক্টোবর ভৈরবে একটি ও ৪ নভেম্বর কুলিয়ারচরে একটি মামলা হয়।
ভৈরবে দায়ের করা মামলায় বিএনপির ২৫০ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। কুলিয়ারচরের মামলায় দেড় শ জনের মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয়। উভয় মামলার বাদী পুলিশ। প্রধান আসামি করা হয় প্রার্থী শরীফুল আলমকে। শরীফুল আলম বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন লাভ করে মাঠে আছেন।
ভৈরবে দায়ের করা মামলার অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহিন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মিয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আল মামুন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, পৌর যুবদলের সভাপতি হানিফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক অহিদুজ্জামান আরমান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জোবায়ের আলম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আঙ্গুর মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সানাউল হক, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. হাবিব, পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু প্রমুখ। তাঁদের মধ্যে ১১ নভেম্বর নুরুজ্জামান, আক্তারুজ্জামান, হানিফ মাহমুদ, অহিদুজ্জামান আরমান, জোবায়ের আলম, শহীদুল হক ও মো. রাজুর জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে তাঁরা কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে নতুন করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাঁদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
কুলিয়ারচরে দায়ের করা মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন পৌর বিএনপির সহসভাপতি বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আজহার উদ্দিন, পৌর যুবদলের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাজ আহমেদ, উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, বিএনপির নেতা এনায়েত উল্লাহ, রতন মেম্বার, আরশ মিয়া, ছানা মিয়া, বাবুল মিয়া, মো. আরমান প্রমুখ। এই মামলারও আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হয় ১২ ডিসেম্বর। একই শঙ্কা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁরাও এখন ফেরার হয়ে নিজেদের আড়াল করে রেখেছেন।
প্রার্থী শরীফুল আলম বলেন, ‘সবদিক দিয়েই অবরুদ্ধ করে আনা হচ্ছে। অর্ধশত মামলার আগাম জামিন নিয়ে আমি এখনো প্রার্থী হিসেবে টিকে আছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা দুই থেকে তিনটি মামলার আসামি। অন্যদের মধ্যে অজ্ঞাত আসামি আতঙ্ক পেয়ে বসেছে। বিশেষ করে দলের যেসব নেতা নির্বাচন পরিচালনা করবেন, তাঁরা এখন ফেরার। এই অবস্থায় আমার বলার কিছু নেই।’