বিচারকদের অসদাচরণ তদন্ত আইন হবে সংবিধান পরিপন্থী

মাহবুব উদ্দিন খোকন
মাহবুব উদ্দিন খোকন

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন-২০১৬ পাস হলে তা সংবিধান পরিপন্থী হবে। এটি স্বাধীন বিচারকার্য পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি করবে। আজ বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট বারের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এটি পাসের মাধ্যমে সরকার পুরোপুরি বিচারপতিদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই ভীতিকর। চাপ সৃষ্টি করার জন্য, ন্যায়বিচার যেন না করতে পারে, সরকারের বিপক্ষে যেন রায় দিতে না পারে—এ জন্য এমন একটি আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এই আইন পাস করার আগে জনমত যাচাই করা উচিত। এ ব্যাপারে যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, অর্থাৎ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সিনিয়র আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের দাবির সঙ্গে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে বিচার বিভাগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান মাহবুব উদ্দিন খোকন।

২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন-২০১৬-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অসামর্থ্য-সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে দাখিল করতে হবে। ১০ জন সাংসদকে নিয়ে স্পিকার একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করবেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে স্পিকার বিষয়টি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাবেন। তদন্ত গোপনে করতে হবে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ করতে হবে সাত দিনের মধ্যে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতি। এ ছাড়া ওই কমিটিতে সাবেক একজন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং একজন সম্ভ্রান্ত নাগরিককে রাখার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত-প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত ফলাফল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর সংবিধানের ৯৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারককে অপসারণ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গ্রহণ করতে হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ওই বিচারককে অপসারণ করবেন। আইনে অভিযুক্ত বিচারকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক অভিযোগ করলে দুই বছর এবং অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।