বিটিসিএলের সাবেক এমডির ৪ মাসের কারাদণ্ড
আদালত অবমাননার দায়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস ও এম কলিম উল্লাহকে চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিটিসিএলের এমডির দায়িত্বে ছিলেন কলিম উল্লাহ।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত অবমাননার অভিযোগে অক্সিনেল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আদালত বিটিসিএলের উপপরিচালক (হিসাব) শাহ ফরিদ উদ্দিন ও আইএফআইসি ব্যাংকের স্টক এক্সচেঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হেলাল আহমেদকে সর্তক করে দিয়ে অব্যাহতি দিয়েছেন।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনীক আর হক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমরুল কায়েস ও শওকত ইউসুফ। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রইস উদ্দিন আহমেদ।
আবেদনকারীর আইনজীবী অনীক আর হক জানান, অক্সিনেল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি আন্তর্জাতিক ফোনকল আদান-প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিটিসিএলের সঙ্গে কাজ করছে। কল আদান-প্রদানের জন্য একে অপরকে অর্থও পরিশোধ করে। তবে এ লেনদেন বিষয়ে বিটিসিএলের সঙ্গে একটি বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিটিসিএল পাওনা বাবদ অক্সিনেলের কাছে ৬০ লাখ টাকা দাবি করে। তখন দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তির শর্ত অনুসারে অক্সিনেলের আইএফআইসি ব্যাংকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি ছিল।
অনীক আর হক আরও জানান, এ অবস্থায় বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৬৮ লাখ টাকা রেখে বাকি টাকা ছাড় করার বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে অক্সিনেল হাইকোর্টে আবেদন করলে গত বছরের ১৩ জুন হাইকোর্ট বিবাদীপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলেন। বিটিসিএল এর জবাব দেয়নি। এমনকি আবেদনের বিষয়ে আপত্তিও জানায়নি। গত বছরের ২৩ জুলাই হাইকোর্ট অক্সিনেলের আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর টাকা তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিটিসিএল আপিল বা রিভিউ না করে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর টাকা ছাড়ের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে একটি চিঠি দেয়। অক্সিনেলের পক্ষ থেকে নভেম্বরে আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও জবাব না পাওয়ায় আদালত অবমাননার আবেদনটি করা হয়। এরপর জানুয়ারিতে আদালত অবমাননার রুল জারির পর তাঁরা (অপরপক্ষ) নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তখন আদালতের নির্দেশ অনুসরণ না করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দিতে হবে কি না, এমন আইনগত প্রশ্নে আদালত অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে পাঁচ আইনজীবী মনোনীত করেন। তাঁরা হলেন রফিক-উল হক, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হোসেন কিউসি, কাজী আকতার হামিদ ও মনজিল মোরসেদ।
আজ রায় ঘোষণার সময় কলিম উল্লাহসহ অপর দুই কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর কলিম উল্লাহকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রেজিস্ট্রার এস এম কুদ্দুস জামান প্রথম আলোকে বলেন, কলিম উল্লাহর প্রতি সাজা পরোয়ানা জারি ও রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশসহ তাঁকে শাহবাগ থানার ওসির কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে তাঁকে উপযুক্ত কারাগারে পাঠানো যায়।