বিভাগীয় ও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি পুনর্গঠন
কর্মপদ্ধতি ও কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দিয়ে সরকারের বিভাগীয় ও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে সমন্বয় কমিটির সদস্যদের সভায় উপস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিটির সভাপতিকে নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর বিষয়টি আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় পুলিশ সুপাররা উপস্থিত থাকেন না বলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসন ক্যাডার ও পুলিশের মধ্যে একধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব লেগে আছে।
নতুন পরিপত্র অনুযায়ী বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবে আগের মতো বিভাগীয় কমিশনারকেই রাখা হয়েছে। আর জেলা কমিটিতে সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক। এবার নতুন হিসেবে এসব কমিটিগুলোর কর্মপদ্ধতি কী হবে, তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, আন্তবিভাগীয় সম্পর্কগুলো কাজে লাগিয়ে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্যই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এসব কমিটিতে নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। সেগুলোকে এখন একসঙ্গে করে এই কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হলো। এ ছাড়া কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কমিটির কর্মপদ্ধতি হিসেবে বলা হয়েছে, প্রতি দুই মাস অন্তর কমিটি একটি সভা করবে। জরুরি প্রয়োজনে দুই মাসের আগেই সভা ডাকা যাবে। সভায় সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সভার কার্যবিবরণী দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠাতে হবে। আর জেলা কমিটিকে প্রতি এক মাসে সভা করতে বলা হয়েছে। তবে প্রয়োজনভেদে জরুরি সভা ডাকা যাবে। এই কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিভাগীয় কমিটি ও সরকারকে নিয়মিতভাবে জানাতে হবে।
উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় পর্যায়ের দপ্তর প্রধান, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালকসহ কয়েক স্তরের কর্মকর্তারা বিভাগীয় কমিটির সদস্য হবেন।
জেলা কমিটিতে জেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোর প্রধানেরা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন সদস্য থাকবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধারণাগত স্পষ্টতার জন্য এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সমন্বয় আরও ফলপ্রসূ করা। এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, সমন্বয়ের অভাব নয়, সমন্বয় কমিটিগুলো আরও কার্যকর করতে কার্যপরিধি ও কর্মপদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।