বিলীন হওয়ার মুখে বাঁধ, আতঙ্কে ১০ গ্রামের মানুষ

বরগুনা সদরের গোলবুনিয়া এলাকার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত মঙ্গলবার তোলা ছবি l প্রথম আলো
বরগুনা সদরের গোলবুনিয়া এলাকার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত মঙ্গলবার তোলা ছবি l প্রথম আলো

বরগুনা সদর উপজেলার গোলবুনিয়া এলাকার আধা কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
এলাকাবাসী বলেন, বুড়িশ্বর (স্থানীয়ভাবে ‘পায়রা’ নামে পরিচিত) নদীর তীরের গোলবুনিয়া এলাকার বাঁধটি গত বছরের অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে বাঁধটির ওই অংশ মেরামত করে। কিন্তু গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে বাঁধটি আবার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙতে ভাঙতে প্রায় আধা কিলোমিটার বাঁধ বিলীন হওয়ার পথে। এতে ওই বাঁধের অভ্যন্তরের মাইঠা, বড় লবণগোলা, ছোট লবণগোলা, মানিকখালী, গোলবুনিয়া, হাজারবিঘা, আমড়াঝুরি, চরকগাছিয়াসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার লোক চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন। বাঁধটি ভেঙে গেলে বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা ও পুলিশ লাইনস এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, গোলবুনিয়া খেয়াঘাট বাজার থেকে উত্তর দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় বাঁধটি তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাঁধের দুই-তৃতীয়াংশ গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী বলছেন, যেভাবে ভাঙছে, তাতে বাঁধের বাকি অংশটুকু বিলীন হতে বেশি সময় লাগবে না। আগামী পূর্ণিমার জোয়ারেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে।
হাজারবিঘা গ্রামের বাসিন্দা নূরুল হক বলেন, এমনিতেই ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে এবার আউশ আবাদে চরম মার খেয়েছেন তাঁরা। টানা বর্ষণ ও বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে এক সপ্তাহের জলোচ্ছ্বাসে চলতি আমন আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাঁধটি বিলীন হয়ে গেলে এলাকার বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয় নামবে।
মাইঠা গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন হাওলাদার বলেন, বরগুনা সদর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদিত হয় বুড়িরচর ইউনিয়নে। জেলা সদরের ৭০ শতাংশ সবজির জোগান দেন এই ইউনিয়নের কৃষকেরা। রোয়ানু ও গেল সপ্তাহের টানা বর্ষণে সবজিখেতের অবস্থা বেহাল। এখন বাঁধটি বিলীন হলে কৃষকদের বাঁচার উপায় থাকবে না।
মানিকখালী গ্রামের লতিফ সিকদার বলেন, দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ না নিলে পুরো বাঁধটি অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছে না।
জানতে চাইলে পাউবোর বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধটির অবস্থা খুব খারাপ, এটা আমি জানতে পেরেছি। গত বছর বাঁধটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হয়। কিন্তু ওখানে নদীর স্রোত এত বেশি যে বাঁধ দিয়ে ঠেকানো কঠিন। আমরা বাঁধটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করানো হবে।’