বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের অস্ত্র বহনের অনুমতি চায় জাপান
জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার (জাইকা) ঢাকা কার্যালয় এবং সারা দেশের প্রকল্পগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশি পাহারা দিতে বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে জাপান। এ ছাড়া ওই সব কার্যালয়ে নিরাপত্তায় নিয়োগ দেওয়া বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঢাকায় জাপান দূতাবাস গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জাপান গুলশানের জঙ্গি হামলায় তাদের সাত নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করার পর বাংলাদেশে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিচলিত। তাই জাইকার পাশাপাশি জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাহায্য সংস্থায় কর্মরত সে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারকে বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দূতাবাসগুলো থেকে চিঠি পেয়েছি। তাদের চাহিদা ও আমাদের সামর্থ্য বিবেচনা করে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে আমরা পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাইকার ১৬ জন কর্মকর্তা, জাপানের ৬৮টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জাপানের পাঁচটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার নিরাপত্তা বাড়াতে দূতাবাস অনুরোধ জানিয়েছে।
গুলশানের রেস্তোরাঁয় ১ জুলাইয়ের জঙ্গি হামলায় জাইকার সাত কর্মকর্তা নির্মমভাবে খুন হওয়ার পর জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাটির ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করার কথা বলছে জাপান দূতাবাস। এর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকায় ও প্রকল্প এলাকায় তাদের চলাফেরার সময় পুলিশি উপস্থিতি চাইছে দূতাবাস।
জাপানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে জাপানের চলমান বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্প নিশ্চিত করতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকার সহযোগিতা চায় টোকিও।
প্রসঙ্গত, জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকা বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার দিয়ে ৬ জুলাই এক বিবৃতি দিয়েছেন। শিনিচি কিতাওকা বলেন, ‘জাইকা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আমরা অব্যাহত রাখব। যেখানে আমরা কাজ করব, সেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়নের চেষ্টাও থাকবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সচেষ্ট থাকব।’
জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, জাপানের নিবন্ধিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলো জাপান দূতাবাসের কাছে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তারা বাংলাদেশে তাদের কাজকর্মের নিরাপদে চালিয়ে যেতে বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পায়। এ প্রসঙ্গে জাপান দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যেন মন্ত্রণালয়গুলো বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যম স্থাপন করে যা ব্যবহার করে, তাদের প্রয়োজন অনুসারে বিশেষ নিরাপত্তা এবং নিরাপদে চলাচলের জন্য নিরাপত্তা সহায়তা চাইতে পারে। জাপান দূতাবাস বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে, বাংলাদেশ যেন জাপানের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় ও কারখানায় যেসব বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেবে, তাদের যেন অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকায় অবস্থিত ভারত, জার্মানি, ডেনমার্ক, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, তাইওয়ান, অস্ট্রিয়া ও থাইল্যান্ড দূতাবাস থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতেরা তাঁদের দূতাবাস ও বাসভবনের নিরাপত্তা বাড়াতে বলেছিলেন। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য এবং যাঁরা ঢাকায় আসবেন, তাঁদের নিরাপত্তা চেয়েও প্রায় প্রতিদিনই চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার (ইউএসএইড) কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান নিজের বাসায় নির্মমভাবে খুন হওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদারের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের অস্ত্র বহনের অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বেসরকারি ওই সংস্থাটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই অনুরোধে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ। কারণ, কোনো দেশের হাইকমিশন ও দূতাবাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে আসেম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আজ শুক্রবার দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন।