
বাংলাদেশে ঘরে ঘরে পশু পালন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কুকুর, বিড়ালের পাশাপাশি কাঠবিড়ালি, ইঁদুর, খরগোশ এমনকি বিভিন্ন ধরনের পাখিও ঘরে লালন-পালন শুরু হয়েছে। ঘরে পশু-পাখি প্রতিপালনের কারণে দিন দিন ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের (বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা) চাহিদাও বাড়ছে। তবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা এখনো অপ্রতুল।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক কে বি এম সাইফুল ইসলাম আজ বুধবার বিকেলে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন।
বুধবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) দুই দিনব্যাপী চতুর্থ জাতীয় ডিভিএম ইন্টার্ন গবেষণা সম্মেলন শুরু হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ‘বেসরকারি ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর চিকিৎসা: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কে বি এম সাইফুল ইসলাম। দুদিনের সম্মেলনে ৪০টির বেশি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পোষা প্রাণী পরিবারের সদস্যদের মতোই। পরিবারের কারও অসুখ হলে আমরা যেমন দুশ্চিন্তায় পড়ি। তেমনি পোষা বিড়াল, কুকুর কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর চিকিৎসা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। কারণ পোষা প্রাণীর সঙ্গে আমরা সবকিছু এখন শেয়ার করি।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, পোষা প্রাণীর চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে রোগ নির্ণয় করার সুযোগ থাকলেও সেখানে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। ফলে রোগ নির্ণয় করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দক্ষ জনবলের পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানোর প্রতি সরকারকে জোর দিতে হবে। তাহলে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার কিংবা চিকিৎসকেরা যথাযথভাবে চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুধবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইছুল আলম মণ্ডল বলেন, দক্ষ লোকের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিন্ন সিলেবাস কারিকুলাম প্রণয়ন করা জরুরি। তাহলে সবাই সমানভাবে দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। বিশেষ করে ভেটেরিনারি পেশাকে অর্থবহ করতে হলে বাস্তবতার নিরিখে সিলেবাস কারিকুলামকে ঢেলে সাজাতে হবে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশ ও প্রাণিজগতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এসব প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভেটেরিনারি পেশাজীবীদের ভূমিকা পালন করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এর কোনো বিকল্প নেই।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস ইউনিভার্সিটি ও সিভাসুর মধ্যে বাস্তবায়নাধীন টুইনিং প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক মো. আহসানুল হক। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষকেরা প্রায় ৪০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে বিষয়সংশ্লিষ্ট পোস্টারও প্রদর্শিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ইসমাইল খান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিরেশ রঞ্জন ভৌমিক, সিভাসুর প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ, ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবদুল হালিম, যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক গ্রেগোরি এম. উলফুস।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিভাসুর বহিরাঙ্গন কার্যক্রম পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম সাইফুদ্দীন।