সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর দাবি, তবে রামরু বলছে ভিন্ন কথা
বৈদেশিক কর্মসংস্থানে জঙ্গি হামলা প্রভাব ফেলবে না
গুলশানের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার কোনো প্রভাব বৈদেশিক কর্মসংস্থানে পড়বে না বলে মনে করছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। একইভাবে সিঙ্গাপুরে জঙ্গি হিসেবে কয়েকজন বাংলাদেশির গ্রেপ্তারের ঘটনাও সেখানে কোনো সংকট তৈরি করবে না বলে মনে করেন তিনি। তবে দেশে-বিদেশে সর্বত্র জঙ্গিদের সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত এক বছরের অর্জন এবং আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে কাজের মানে বাংলাদেশিদের সুনাম আছে। সবাই বাংলাদেশিদের নিতে চায়। কাজেই জঙ্গি হামলা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সৌদি আরব, ওমানসহ বিভিন্ন দেশে নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময়ই এসব অভিযোগ ঠিক হয় না। কারও হয়তো খাবারের সমস্যা হচ্ছে, তিনি অভিযোগ করে বসেন। তারপরও এসব বিষয় তদন্তে বাংলাদেশ থেকে দুটি প্রতিনিধিদল সৌদি আরব ও লেবানন যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরে বিভিন্ন দেশে মোট ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৫৪ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এ বছরে সাড়ে ৭ লাখের বেশি কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কবে কীভাবে তারা বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে, তা আমরা জানি না। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ দেশটিতে শ্রমিক পাঠানো একটি চক্রের হাতে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশের ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা আছে। তারা তাদের ইচ্ছামতো এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক নেবে।’
মন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘জঙ্গি হামলা কিংবা সিঙ্গাপুরের ঘটনায় কোনো প্রভাব পড়বে না আমি এমনটা মনে করি না। বরং এগুলো খুবই চিন্তার বিষয়। তিনি বলেন, সবাইকে আশ্বস্ত করতে না পারলে অবশ্যই শ্রমবাজারে প্রভাব পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেগম শামসুন নাহার, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।