
• ১৮ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা, প্রচ্ছদসহ ২০ পৃষ্ঠার।
• পুস্তিকাটি বেরিয়েছিল ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর।
• পুস্তিকাটির শিরোনাম, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা-না উর্দু?
• পুস্তিকাটিতে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া হয়।
>বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছিল ১৯৪৭ সাল থেকে। নানান নথিপত্রে সেই আন্দোলন গড়ে ওঠার কাহিনি ছড়িয়ে আছে। এ রকমই কয়েকটি দলিল নিয়ে ধারাবাহিক।
পুস্তিকাটিতে পাকিস্তানের, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া হয়। তিনটি মাত্র রচনা। ‘আমাদের প্রস্তাব’ শিরোনামের প্রথম রচনায় অধ্যাপক এম আবুল কাসেম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের দুটি রাষ্ট্রভাষা প্রস্তাব করেন। একটি উর্দু ও অপরটি বাংলা।
দ্বিতীয় রচনাটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বুদ্বিজীবী অধ্যাপক কাজী মোতাহের হোসেনের। শিরোনাম ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা-সমস্যা’। দীর্ঘ রচনাটি পরে সওগাত পত্রিকার ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর সংখ্যাতেও প্রকাশিত হয়েছিল। এতে তিনি লেখেন, ‘কোনো দেশের লোকে যে ভাষায় কথা বলে, সেইটাই সে দেশের স্বাভাবিক ভাষা। …প্রজা সাধারণের ভাষাই রাষ্ট্রভাষা। অতএব পূর্ব পাকিস্তানের রাজভাষা বা রাষ্ট্রভাষা বাংলাই হওয়া স্বাভাবিক এবং সমীচীন।’ তৃতীয় রচনাটির রচয়িতা ছিলেন সাহিত্যিক ও ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল মনসুর আহমদ। শিরোনাম ছিল ‘বাংলা ভাষাই হইবে আমাদের রাষ্ট্রভাষা’। তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে সাতটি যুক্তি তুলে ধরেন।
পুস্তিকাটি প্রকাশ করে তমদ্দুন মজলিস নামে ঢাকায় সদ্য জন্ম নেওয়া (১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭) একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনের প্রাথমিক পর্বে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।