নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা মহামারি আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে রুল শুনানিতে আজ বৃহস্পতিবার আদালত ওই মন্তব্য করেন।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করেন। আদালত আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির পরবর্তী দিন রেখেছেন।
শুনানিকালে আদালত বলেন, ভিডিও ধারণ করার মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে জিম্মি (ব্ল্যাকমেল) করার প্রবণতা মহামারি আকার ধারণ করেছে। ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দিলে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে বেগমগঞ্জের এক নারীকে (৩৭) বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা এ ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ৩২ দিন পর ঘটনা জানাজানি হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ওই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন নজরে আনা হলে ওই বছরের ৫ অক্টোবর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। ওই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা ভিডিও সিডি বা অন্য কোনো মাধ্যমে রেখে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাঁচটি পয়েন্টে অনুসন্ধান করতে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। কমিটিকে সুপারিশসহ ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এ অনুসারে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত বছরের ২৯ অক্টোবর আদালতে দাখিল করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় রুলের ওপর এখন শুনানি চলছে।
আদালতে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন (গণমাধ্যমের খবর নজরে এনেছিলেন) ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী অনীক আর হক শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।