ভুল সংশোধনে চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ে ভিড়

জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করতে গতকাল চট্টগ্রাম নগরের লাভলেইন এলাকায় অবস্থিত নির্বাচন কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের ভিড়। ছবিটি গতকাল ​বেলা ১২টার দিকে তোলা l প্রথম আলো
জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করতে গতকাল চট্টগ্রাম নগরের লাভলেইন এলাকায় অবস্থিত নির্বাচন কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের ভিড়। ছবিটি গতকাল ​বেলা ১২টার দিকে তোলা l প্রথম আলো

‘আমার স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের ইংরেজি বানান ঠিক থাকলেও বাংলা বানান ভুল হয়েছে। ওই ভুল সংশোধনীর জন্য আমরা এখানে এসেছি।’ বললেন চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসান।
স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল বুধবার তিনি নগরের জুবিলি রোডে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে এসেছিলেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনের জন্য তাঁদের মতো আরও অনেকে ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে।
৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে ভুল সংশোধনের আবেদন করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতি মাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় সাড়ে চার হাজার নাগরিক সংশোধনীর জন্য আবেদন করেছেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, বেঁধে দেওয়া সময়সীমার শেষ মুহূর্তে নাগরিকদের ভিড় বেড়েছে। ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগামী বছর থেকে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হবে। ওই কার্ড ব্যয়বহুল। তাই ভুল এড়িয়ে আমরা শুদ্ধ নাম, ঠিকানা-সংবলিত স্মার্ট কার্ড দিতে চাই। এরই অংশ হিসেবে ভুল সংশোধনের এই সময়সীমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।’
গতকাল জুবিলি রোডে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদনপত্র জমা দিতে শত শত নারী-পুরুষ অপেক্ষা করছেন। সিটি করপোরেশনের ছয়টি বৃহত্তর থানা এলাকার (কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও বন্দর) নাগরিকেরা পৃথক ছয়টি কাউন্টারে আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন।
আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংশোধনীর আবেদন করেছেন বন্দর এলাকার নাগরিকেরা। এই এলাকার ১ হাজার ৬০ জন সংশোধনের আবেদন করেছেন। এ ছাড়া ডবলমুরিং এলাকার ৮৫০ জন, কোতোয়ালির ৭৮০ জন, পাহাড়তলীর ৬৩৮ জন, পাঁচলাইশের ৫৭০ জন ও চান্দগাঁওয়ের ৫৫৫ জন সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, আবেদনপত্র জমা নেওয়ার দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট নাগরিককে দেওয়া হবে। তবে সাত দিনের মধ্যে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে চাইলে ঢাকায় জরুরি ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে।
খোরশেদ আলম বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে জমা পড়া আবেদনপত্রের হিসাব আমরা এখনো করিনি। তবে তা অক্টোবরের তুলনায় কম হবে।’ তিনি বলেন, আরও তিন হাজারের বেশি আবেদনপত্র জমা পড়বে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।