ভোটে যাচ্ছে না এমএন লারমা ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস–এমএন লারমা) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ–গণতান্ত্রিক) এবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে নেতা–কর্মী-সমর্থকেরা দলের দাবির প্রতি সংবেদনশীল কোনো দলের পক্ষে কাজ করবেন। দুই দলের নেতাদের সঙ্গে গত দুই দিন কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

দুই দলের নেতারা বলছেন, নানা কারণে তাঁরা এখন সমস্যা ও সংকটের মধ্যে রয়েছেন। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বরের আগে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মূল জেএসএস ও ইউপিডিএফ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিটন চাকমা জানিয়েছেন, দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারে গতকাল রোববার তাঁদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা হয়েছে। এতে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দলীয় প্রার্থী দেওয়া হবে না। কেন প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে মিটন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে এখনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারছে না। এ জন্য তাঁরা প্রার্থী দিচ্ছেন না।’

অন্যদিকে জেএসএসের (এমএন লারমা) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেছেন, তাঁদের দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে প্রার্থী দিয়েছিল। যদিও খাগড়াছড়ি আসনের প্রার্থিতা মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়েছিল। কিন্তু এবার দলের সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা ও সহসভাপতি রূপায়ণ দেওয়ান শারীরিকভাবে অসুস্থ। সুধাসিন্ধু খীসা কিডনি সমস্যা ও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাঁটাচলাও করতে পারছেন না। রূপায়ণ দেওয়ানও অসুস্থতার কারণে প্রায় বাক্‌রুদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। আরেক প্রভাবশালী সহসভাপতি ও নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমানে হত্যা করা হয়েছে।

সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, সুধাসিন্ধু খীসা গত নির্বাচনে রাঙামাটি আসনের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার ভোট পেয়েছেন। তা ছাড়া রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে নির্বাচন পরিচালনার মতো পরিবেশও নেই। এসব কারণে দল থেকে সাংসদ প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দলটির আরেক কেন্দ্রীয় সদস্য প্রশান্ত চাকমা বলেছেন, দল থেকে প্রার্থী দেওয়া না হলেও কোনো একটি দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে। তবে পার্বত্য চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফ এবং এদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সমঝোতা করা কোনো দলের প্রার্থীকে তাঁরা সমর্থন দেবেন না।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ গঠিত হয়। গত বছরের ১৫ নভেম্বর দলটি ভেঙে একটি অংশ বেরিয়ে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক গঠন করে। একইভাবে পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনকারী জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস থেকে একটি অংশ বের হয়ে ২০১০ সালে জেএসএস-এমএন লারমা গঠন করে।

মূল দল থেকে বের হওয়া দুটি দলই এখন একসঙ্গে কাজ করছে এবং মূল ইউপিডিএফের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। সংর্ঘষে গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন।