মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালের পরিবেশ নেই। ভেতরে-বাইরে নোংরা, আবর্জনা। যেখানে সেখানে অব্যবহৃত, নষ্ট হওয়া জিনিসপত্রের স্তূপ। কোনো কোনো জায়গা মাসের পর মাস পরিষ্কার করা হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিষ্কার করার লোক নেই।
একাধিক ভবন নিয়ে এই হাসপাতাল ক্যাম্পাস। পরিষ্কার করার দায়িত্ব সুইপারদের। এখানে পাঁচজন সুইপারের পদও আছে। কিন্তু কাজ করছেন দুজন। তিনটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
দেশের দক্ষিণের জেলা পিরোজপুরের অন্যতম বড় উপজেলা মঠবাড়িয়ায় ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলার ৩ লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যার এই সরকারি উপজেলা হাসপাতাল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুমুল হক খান গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা চিকিৎসা দেবেন, সেই চিকিৎসকেরই বড় সংকট এখানে। চিকিৎসকের পদ আছে ২১টি, কাজ করছেন নয়জন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অর্ধেকের বেশি নেই।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান শাখার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির মঞ্জুরিকৃত ৩২টি পদের মধ্যে ১৯ পদে লোক নেই। দ্বিতীয় শ্রেণির ১৮টি পদের ৫টিতে, তৃতীয় শ্রেণির ১৩০ পদের ১৭টিতে এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৪ পদের ৫টিতে লোক নেই। অর্থাৎ ৪৬টি পদ শূন্য। মাসুমুল হক খান বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে ৬০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকে। আর বহির্বিভাগে দৈনিক গড়ে ২০০ জনের মতো রোগী আসে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ওপর মহলের নজর নেই। আন্তরিকতার অভাব আছে। উদাহরণ দিয়ে তাঁরা বলেন, এক্স-রে যন্ত্র দুই বছর ধরে নষ্ট। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এ ব্যাপারে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঁচবার চিঠি দিয়েছেন। যন্ত্র ঠিক করতে কেউ আসেনি। ওপরের পাঠানো একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র মাস দুয়েক আগে হাসপাতালে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোক সেটা চালাতে পারেননি বলে যন্ত্র বুঝে পাওয়ার কাগজে সই করেননি মাসুমুল হক খান। সই দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাসুমুল হক। অন্য একটি কোম্পানি একটি নষ্ট ইসিজি যন্ত্র দিয়ে গেছে। হাসপাতালে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য থাকা চারটি জেনারেটরের তিনটিই নষ্ট।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৩ নম্বর কক্ষটি প্রধান সহকারীর জন্য বরাদ্দ। প্রধান সহকারী সেই কক্ষেÿবসেন না। কক্ষটিতে গিয়ে দেখা গেল, ছাদের ইট, সুরকি, পলেস্তারা খসে পড়ছে। রড দেখা যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে ছাদ ঠিক করা হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ঠিকাদার কাজটি করেছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বললেন, ‘এর মধ্যেই রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। জনবল ও ভালো যন্ত্রপাতি পেলে হয়তো আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হতো।’
সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে রোগীরা যে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তা বোঝা যায় বেসরকারি ক্লিনিকের বাড়বাড়ন্ত দেখে। উপজেলা সদরে বেশ কয়েকটি বড় বড় ক্লিনিক গড়ে উঠেছে, রোগীও পাচ্ছে।