মধুমতী নদী খনন করে খুলনা নগরে পানি সরবরাহের দাবি
মধুমতী নদী ও সংলগ্ন খালগুলো খনন না করে খুলনা ওয়াসার জন্য পানি সরবরাহ করা হলে টুঙ্গিপাড়া, চিতলমারী ও মোল্লাহাট উপজেলার বিলগুলোতে লোনাপানি ঢোকার আশঙ্কা করছে ‘পরিবেশ সুরক্ষায় উপকূলীয় জোট’ নামের একটি সংগঠন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়ে সংগঠনটির নেতারা মধুমতী নদী থেকে খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহের আগে নদীটি খনন করার দাবি জানিয়েছেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী ও সদস্যসচিব এস এম ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াসার এই প্রকল্পের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির উৎস মধুমতী নদী ও সংলগ্ন জলাশয়গুলো হুমকির মধ্যে পড়বে। ইতিমধ্যে নদীটি স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে এবং সংলগ্ন খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে মিঠাপানি সংরক্ষণকারী টুঙ্গিপাড়া, চিতলমারী ও মোল্লাহাটের বিলগুলো এই নদীর পানির প্রধান উৎস। শুষ্ক মৌসুমে ওই বিলগুলো শুকিয়ে যায়। ওয়াসার প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন শাখানদী ও খালের মাধ্যমে লোনাপানি বিলগুলোতে ঢুকবে এবং ওই অঞ্চলের কৃষিব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় উপকূলীয় জোটের সদস্যসচিব ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মধুমতী নদীসংলগ্ন বিলগুলোতে মিঠাপানি থাকে। আইলার সময় বিলগুলোতে লোনাপানি উঠে যায়। কিন্তু ধীরে ধীরে আবার মিঠাপানি চলে এসেছে। নদী ও আশপাশের খালগুলো খনন না করে খুলনা ওয়াসার প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে আশপাশের অন্যান্য নদীর লোনাপানি এসব বিলে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, মধুমতী নদী ও সংলগ্ন খালগুলো খনন করার জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। তা ছাড়া, প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ দিয়ে জরিপ চালানো হয়েছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে পানি ব্যবহার করা হলেও ওই নদীর কোনো ক্ষতি হবে না।