মাদ্রাসাশিক্ষার জন্য পৃথক অধিদপ্তর করা হচ্ছে

ঘোষণা দেওয়ার প্রায় চার বছর পর মাদ্রাসাশিক্ষার জন্য আলাদা অধিদপ্তর হচ্ছে। এর নাম হচ্ছে ‘মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর’। এই অধিদপ্তরের জন্য মহাপরিচালকসহ ৫০টি পদের অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিগগির মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বর্তমানে মাদ্রাসাশিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে। ইবতেদায়ি থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষার জন্য মাদ্রাসার সংখ্যা ১৭ হাজার ৯০৭টি। এগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬৫ লাখ। মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ সরকার থেকে অনুদান (এমপিওভুক্ত) পায় ছয় হাজার ৫৯৮টি। মাউশির পক্ষে বিদ্যালয় ও কলেজগুলোর পাশাপাশি এসব মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে দেখভাল করা সম্ভব হয় না বলে অভিযোগ করে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা অধিদপ্তর করার দাবি জানাচ্ছেন। বিগত মহাজোট সরকারের সময় ২০১০ সালের মার্চ মাসে মাদ্রাসাশিক্ষকদের একটি সংগঠনের নেতারা সাক্ষাৎ করতে গেলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্বতন্ত্র মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর করার ঘোষণা দেন। এরপর এ নিয়ে কাজ শুরু হলেও গতি পায়নি। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে এতে আবার গতি সঞ্চার হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক করার কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়। সব কাজ শেষে গত জুলাই মাসে অধিদপ্তরের জনবল কাঠামো, যানবাহন, অন্যান্য অফিস সরঞ্জামের অনুমোদন দিয়ে আদেশ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য অনুমোদিত পদের মধ্যে একজন মহাপরিচালক, দুজন পরিচালক, তিনজন উপপরিচালক, সাতজন সহকারী পরিচালক, সাতজন পরিদর্শক, একজন সহকারী প্রোগ্রামার, একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, একজন লাইব্রেরিয়ান-কাম-ডকুমেনটেশন কর্মকর্তা, একজন করে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তার পদ রয়েছে। এ ছাড়া তিনজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন স্টোরকিপার (গুদামরক্ষক), দুজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, একজন ক্যাশিয়ার, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, একজন হিসাব সহকারী, চারজন চালক, একজন ডেসপাস রাইডার, সাতজন এমএলএসএস (পিয়ন), তিনজন দারোয়ান ও দুজন ঝাড়ুদারের পদ রয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য তিনটি জিপগাড়ি এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য একটি মাইক্রোবাস কেনা হবে।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, প্রাথমিক অবস্থায় শিক্ষাভবনের পাঁচতলায় বর্তমানে যেখানে মাউশির মাদ্রাসা শাখা পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে অধিদপ্তরের অস্থায়ী কার্যালয় হবে। পরে জায়গা ঠিক করে স্থায়ী জায়গায় স্থানান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাজ প্রায় শেষ করা হয়েছে। এখন অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, মাদ্রাসাশিক্ষার উন্নয়নে তাঁরা আরও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী হচ্ছে: মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩১ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শনকালে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে মাদ্রাসাশিক্ষা আধুনিকায়নের ওপরও জোর দেন। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর ২৮টি নির্দেশনার প্রথমটিই হলো মাদ্রাসার শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করা।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা তাঁরা পেয়েছেন। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।