মানিকগঞ্জের আরও দুই উপজেলা প্লাবিত

দৌলতপুর ও হরিরামপুরের পর এবার মানিকগঞ্জের সদর ও ঘিওর উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার দীঘি গ্রামে। ছবি: আবদুল মোমিন
দৌলতপুর ও হরিরামপুরের পর এবার মানিকগঞ্জের সদর ও ঘিওর উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার দীঘি গ্রামে। ছবি: আবদুল মোমিন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও হরিরামপুরের পর এবার জেলা সদর ও ঘিওর উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বাড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানিতে কাঁচা-পাকা রাস্তা তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িতে পানিতে ওঠে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লোকজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) ফারুক আহমেদ জানান, উজান থেকে ঢল ও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে মানিকগঞ্জে যমুনা ও পদ্মা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে উজানে যমুনার পানি অস্বাভাবিক বেড়েছে এবং অতি বৃষ্টিপাতের কারণে কালীগঙ্গা নদীর পানিও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে জেলা সদরের দীঘি, নবগ্রাম, জাগীর, পুটাইল ও ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়নের ছুটি ভাটবাউর, দীঘি, পাথরাইল, ঘোনা, রম্বনপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রামের নিচু বাড়িঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। দীঘি-ছুটি ভাটবাউর সড়ক, দীঘি-ঘোনা সড়কসহ আরও বেশ কয়েকটি পাকা ও কাঁচা সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

দীঘি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা বলেন, ‘বেশ কয়েকটি গ্রামে নিচু বসতভিটা ও বাড়িঘরে পানি উঠে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা করতে ইউপি সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছি।’

জাগীর ইউনিয়নের বাইচাইল, উকিয়ারা, ঢাকুলী, দিয়ারা, গ্যাড়াকুল, জাগীর মেঘশিমুল, মত্ত ও দেড়গ্রাম গ্রামে বন্যার পানি শতাধিক বাড়িতে উঠে পড়েছে। বেশ কয়েকটি কাঁচা ও পাকা রাস্তা তলিয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি কাঁচা রাস্তা পানির স্রোতে ধসে গেছে। ওই ইউপির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লোকজন।

আজ সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ছুটি ভাটবাউর ও দীঘি গ্রামের ২৫ থেকে ৩০টি বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। গবাদিপশু ও কৃষিপণ্য নিয়ে এসব এলাকার কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

দীঘি গ্রামের কৃষক আদম আলী ও ফারুক হোসেনের ঘরে পানি ওঠায় ঘরে রাখা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

এ ছাড়া বন্যার পানিতে জেলা সদরের নবগ্রাম, পুটাইল, ভাড়ারিয়া ও গড়পাড়া ইউনিয়নে নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি উঠে পড়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অনেক স্থানে পথঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে ধলেশ্বরী নদীতেও অস্বাভাবিক পানি বাড়ায় ঘিওর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কয়েক শ বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে পানি উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবল বৃষ্টিপাত ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বাড়ায় ঘিওরের নালী, পয়লা, বড়টিয়া, বানিয়াজুরী ও ঘিওর সদর ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কয়েক শ নিচু বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘিওরের পয়লা ইউনিয়নের বড় কুষ্টিয়া, কান্দা কুষ্টিয়া ও নার্চি; বড়টিয়ার হিজুলিয়া ও মৌহালী এবং ঘিওর সদর ইউনিয়নের শাহপাড়া, রসুলপুর ও ঠাকুরকান্দি গ্রামে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আইরিন আক্তার বলেন, বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্যাদুর্গত ১ হাজার ৩০ জন মানুষের মধ্যে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বন্যাকবলিত উপজেলার ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে।