মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে মুফতি হান্নানের আপিল
সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় হওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষস্থানীয় নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও হুজির সিলেট অঞ্চলের সংগঠক শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল। গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন জমা দেন ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ শামসুল আলম। মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন মুফতি হান্নানের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী।
গত ২৮ এপ্রিল মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করা হয়। মুফতি হান্নান ছাড়া বাকি দুজন হলেন হুজির সিলেট অঞ্চলের সংগঠক শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন। মামলার অপর দুই আসামি মুফতি হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান (অভি) এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মুফতি হান্নান নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হুজির শীর্ষস্থানীয় নেতা। তাঁর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বাংলাদেশে উগ্র জঙ্গিবাদ ও নাশকতা বিস্তৃত হয়েছে। ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলের কাছে বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় প্রথমবারের মতো তিনি আলোচনায় আসেন। ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমা হামলা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও ২০০৫ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার মতো উল্লেখযোগ্য নাশকতার ঘটনার অন্যতম সংগঠক ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই মুফতি হান্নান। তাঁরই পরিকল্পনায় ২০০৪ সালের ২১ মে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।
২০০৪ সালের ২১ মে নবনিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী সিলেটে গেলে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে যান। সেখানে দরগাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকের কাছে তাঁকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তিনজন নিহত হন এবং আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হাই খানসহ প্রায় ৭০ জন আহত হন।