রণাঙ্গনের 'সহযোদ্ধা' সাংবাদিক মার্ক টালি

>১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নানা দেশের অজস্র সহমর্মী মানুষ। যুদ্ধের মাঠে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, শরণার্থী শিবিরে, প্রতিবাদে বা জনমত গঠনে কঠিন সেই সময়ে তাঁরা ভূমিকা রেখেছেন। সেই বন্ধুদের কয়েকজনকে নিয়ে এ আয়োজন।
একাত্তরের জুনের তৃতীয় সপ্তাহ। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বিদেশি সাংবাদিকদের পূর্ব পাকিস্তান সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। বিবিসি মার্ক টালিকে পাঠায় বাংলাদেশে। তিনি তখন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা। সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবির ও বিভিন্ন জেলা ঘুরে তিনি বাঙালিদের প্রকৃত দুর্দশার চিত্র আর যুদ্ধের খবর পাঠান। রণাঙ্গনের সেসব খবর বিশ্ববাসীর বিশ্বাসের অন্যতম অবলম্বন হয়ে ওঠে।
মার্ক টালি ঢাকায় ২৫ মার্চের বর্বর হামলা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। পরে তাঁকে ঢাকা ছেড়ে যেতে হয়। আট বছর আগে দিল্লিতে বসে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্ক টালি জানান, ২৫ মার্চের পর পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ ঢাকা ও এর আশপাশের কিছু এলাকা সাংবাদিকদের ঘুরে দেখায়। সবকিছুই ঠিকঠাক আছে তা বোঝানোই ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর উদ্দেশ্য।
মার্ক টালি বলেন, ‘অনুমোদন পেয়ে ঢাকার শাঁখারীবাজারে যাই। সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। আমি বেশ কিছু ছবি তুললাম। হঠাৎ এক পাঞ্জাবি পুলিশ এসে আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমার চলাচলসংক্রান্ত ফাইল দেখে আমাকে আটক করায় ওই পুলিশকে ধমক দেন। ওসি সম্ভবত বাঙালি ছিলেন। ওসির সাহস দেখে আমি মুগ্ধ হই। ওই সময় এটি ছিল অনন্যসাধারণ এক কাজ। আমি তাঁর জন্য গর্ববোধ করি।’
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে মার্ক টালি ছিলেন বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের আশার আলো। রেডিওতে কান পেতে সকাল-সন্ধ্যা বিবিসিতে মার্ক টালির কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকত তারা, পুরো দেশ। তাঁর কণ্ঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ত বাঙালির বুকেও। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা দেয়।