লেয়ার মুরগির বাচ্চার দাম বেশি, ডিমের দাম কম

এক বছরের ব্যবধানে লেয়ার মুরগির বাচ্চার দাম তিন গুণ বাড়ায় এবং ডিমের বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। এ অবস্থায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার খামারিরা পোলট্রি শিল্প বাঁচাতে আন্দোলনে নেমেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সখীপুরের বড়চওনা বাজারে উপজেলা পোলট্রি শিল্প মালিক সমিতি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। লেয়ার মুরগির বাচ্চার দাম কমানো ও ডিমের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে শিগগিরই রাজধানী ঢাকা শহরে মানববন্ধন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলার খামারি নেতারা।
জেলা পোলট্রি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘পোলট্রি শিল্পে দালাল চক্র হ্যাচারির মালিকদের কাছ থেকে প্রতিটি বাচ্চা ১০০ টাকায় কিনে খামারিদের কাছে ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি করছে। খামারি সরাসরি হ্যাচারি থেকে বাচ্চা আনার সুযোগ পান না। শিগগিরই এ বিষয়ে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। হ্যাচারি থেকে সরাসরি কম মূল্যে খামারিদের বাচ্চা আনার সুযোগ দিতে হবে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও পোলট্রি শিল্প মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের সখীপুর ও ঘাটাইলসহ পাশের ময়মনসিংহের ভালুকা ও ফুলবাড়িয়া উপজেলায় কমপক্ষে পাঁচ হাজার পোলট্রি খামার গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন এ অঞ্চল থেকে উৎপাদিত ডিম ও ব্রয়লার মুরগি সারা দেশে যাচ্ছে। খামারিরা যখন লাভের মুখ দেখছেন তখন হঠাৎ মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায় খামারিরা চিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলা পোলট্রি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২০১৬ সালের প্রথম দিকে একটি লেয়ার মুরগির বাচ্চা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় কেনা হতো। এখন কিনতে হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হয় ৫ টাকা ৮০ পয়সা। একজন খামারি এখন এ ডিম বিক্রি করছেন ৫ টাকা ৭০ পয়সায়। সখীপুরে বর্তমানে শুধু লেয়ার মুরগির খামারই রয়েছে আড়াই হাজার। এ অবস্থা চলতে থাকলে আস্তে আস্তে খামারগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
বড়চওনা গ্রামের খামারি আনোয়ার তালুকদার বলেন, ‘এক বছর ধরে আমি নতুন বাচ্চা কেনার সাহস পাচ্ছি না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উকিল উদ্দিন গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘বাচ্চার মূল্য বেশি ও ডিমের বাজার কম হওয়ায় খামারিরা লোকসান গুনছেন। বিষয়টি আমরা জেলা কর্মকর্তাদের অবগত করছি।