
সুবর্ণ দ্বীপ থেকে আনা রত্নখচিত ইন্দ্রমণির হার রাজার কাছে বিক্রি না করে নিজের ভালোবাসার মানুষটির গলায় তুলে দিতে চায় বণিক বজ্রসেন। তাই রাজকোটালের কোপানলে পড়ে সে। রাজকোষ থেকে রত্ন চুরির মিথ্যে অভিযোগে বন্দী করা হয় তাঁকে। এদিকে, সুন্দরী শ্যামা ‘দেবকান্তি’ বিদেশি বণিককে দেখে নিজের অজান্তেই মন-প্রাণ সমর্পণ করে। যেকোনো উপায়ে বজ্রসেনকে মুক্ত করতে মরিয়া সে। শ্যামার তরুণ প্রেমিক উত্তীয় নিজের ঘাড়ে সব দোষ টেনে নিয়ে মুক্ত করে বজ্রসেনকে। মুক্ত হয়ে বজ্রসেন বুঝতে পারে, শ্যামাই তার কাঙ্ক্ষিত নারী। কিন্তু উত্তীয়ের আত্মত্যাগের ঘটনা জানার পর বজ্রসেন প্রত্যাখ্যান করে শ্যামাকে। উদভ্রান্ত, বিহ্বল শ্যামা বুঝতে পারে সব হারিয়েছে সে।
গত বৃহস্পতিবার নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে উপস্থিত শ পাঁচেক দর্শক মুগ্ধ হয়ে দেখলেন নৃত্যনাট্য শ্যামা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির শতবর্ষ ও ৭২তম প্রয়াণ বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রাম শাখা। এতে নৃত্যনাট্য শ্যামার পাশাপাশি পরিবেশিত হয় গীতাঞ্জলির গান।
সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠান শুরুর আগেই মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। গীতাঞ্জলির গান দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ছিল কথামালাও। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অনুপম সেন ও চট্টগ্রামের ভারতের সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ ঘোষ।
অনুপম সেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যে কাজ করেননি। নোবেল পুরস্কার না পেলেও বিশ্ববাসীর কাছে সমান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতেন তিনি।
এর আগে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ২২ জন শিল্পী সমাবেতভাবে একে একে গেয়ে শোনান, ‘আমার মাথা নত করে দাও তোমার, চরণ ধুলার তলে’, ‘উড়িয়ে ধ্বজা অভ্রভেদী রথে’সহ পাঁচটি গান।
নৃত্যনাট্য শ্যামার নির্দেশনা দেন প্রমা অবন্তী। শ্যামা চরিত্রে তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় মুগ্ধ করেছে দর্শককে। এ ছাড়া বজ্রসেন চরিত্রে স্বপন দাশ, উত্তীয় চরিত্রে জয়িতা দত্ত, কোটাল চরিত্রে প্রাপন বড়ুয়া ও বন্ধু চরিত্রে নিবিড় দাশগুপ্তার অভিনয় ছিল সাবলীল। শ্যামার সংগীত আয়োজনে ছিলেন ওস্তাদ মিহির নন্দী। শ্যামা চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন রুম্পা রায় ও বজ্রসেন চরিত্রে অনিরূদ্ধ সেনগুপ্ত।