সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলে জমির মালিকানা হস্তান্তর

সদ্য বিলুপ্ত ১৩২ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহরি বাসিন্দাদের হাতে গতকাল ভূমি মালিকানার খতিয়ান হস্তান্তর করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টি এম এ মোমিন l ছবি: প্রথম আলো
সদ্য বিলুপ্ত ১৩২ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহরি বাসিন্দাদের হাতে গতকাল ভূমি মালিকানার খতিয়ান হস্তান্তর করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টি এম এ মোমিন l ছবি: প্রথম আলো

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগৎবেড় ইউনিয়নের ভেতরে থাকা সদ্য বিলুপ্ত ১৩২ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহলে গতকাল বুধবার থেকে ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির মালিকানাও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে ওই এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
সদ্য বিলুপ্ত ১৩২ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহলে গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, একদল ভূমি জরিপ কর্মকর্তা জমি মাপযোগ করছেন। আরেক দল স্থানীয় বাসিন্দা আবু হোসেনের বাড়ির উঠানে টেবিল বসিয়ে জমির খতিয়ান প্রস্তুত করছেন। এ দুই দল জরিপকারীদের ঘিরে ছিটমহলবাসী আনন্দে মেতে উঠেছে। বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় যুবক হোসেন আলীর (৩০) হাতে তাঁদের দুই ভাইয়ের নামে প্রায় এক একর ৫০ শতক জমির খতিয়ান তুলে দেওয়া হয়। জমির খতিয়ান পেয়ে আনন্দে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘বাপ-দাদার ঘরের নামে জমি থাকিয়াও জমির মালিকানার কাগজ পায় নাই। সেই জমির মালিক হন হামরা কাগজেরও (খতিয়ান) মালিক হন। এলা বাংলাদেশিও হন। আরামে ঘুমামো এলা হামরা।’
সহকর্মীদের নিয়ে ভূমি জরিপের কাজ করছিলেন পাটগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) টি এম এ মোমিন। তিনি বলেন, লালমনিরহাট জেলায় সদ্য বিলুপ্ত ৫৯টি ছিটমহল রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি এ উপজেলায়। এর আবার ১৯টিতে কোনো জনবসতি নেই। বাকি ৩৭টিতে লোকসংখ্যা ৯ হাজার ৬৪৫ জন। জমির পরিমাণ ২৭৯৩.১১ একর। এতে ১১ হাজার ১২৬টি দাগ রয়েছে। এরই মধ্যে ১৮টি ছিটমহলের ২ হাজার ২৩ দাগের জরিপকাজ শেষ করে ফেলেছেন বলে জানান তিনি। মূলত দখলের ভিত্তিতে জরিপ চলছে। দু-তিন দিনের মধ্যে ১৩২ বাঁশকাটায় জরিপের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপর তাঁরা যাবেন ধরলার অপর তীরে আরেক বাঁশ ছিটমহলে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের ভূমি জরিপের কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ভূমি কর্মকর্তা।
স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক রেজা উল করিম বলেন, ‘৬৮ বছর পর হলেও আমরা তো বাংলাদেশি হয়েছি।’ তারপরই তিনি অবশ্য হতাশার সুরে বলেন, সবাই আসছে, উন্নয়নের তালিকাও করে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোথাও কোনো কাজ এখনো শুরু হতে দেখা যায়নি। জরুরি ভিত্তিতে ছিটমহলগুলোতে উন্নয়নের কাজ শুরুর দাবি জানান তিনি।