সম্ভাবনাময় দুগ্ধশিল্প, আমাদের করণীয়
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথমআলোর আয়োজনে ‘সম্ভাবনাময় দুগ্ধশিল্প: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে ছাপা হলো।
সহযোগিতায়:


আলোচনায় সুপারিশ
* দুগ্ধশিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করতে হবে
* দুধের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা িনতে হবে
* গুঁড়া দুধের আমদানির ওপর ক্রমান্বয়ে কর বাড়াতে হবে যেন আমদানি-নির্ভরতা কমে
* দুগ্ধ খামারিদের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রণোদনা দিতে হবে
* সারা দেশে ননিভিত্তিক (ফ্যাটবেজড) তরল দুধ কেনার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করতে হবে
* নারী ও ক্ষুদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে
* গাভির মানসম্পন্ন খাবার, ওষুধসহ সবকিছু সহজলভ্য করতে হবে
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম: অধিকাংশ ক্ষেত্রে খামারিরা দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের মূলধনের অভাব রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব রয়েছে। খামারিদের যদি এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যায় তাহলে তাঁরা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।
বাংলাদেশের দুগ্ধশিল্প ব্যাপক সম্ভাবনাময় একটি খাত। দেশে মোট চাহিদার অর্ধেকের কম দুধ উৎপাদিত হয়। এসবই আজকের আলোচনার বিষয়। এখন আলোচনা করবেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

নারায়ণ চন্দ্র চন্দ: দুগ্ধশিল্প আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কৃষিপ্রধান আমাদের দেশ। এখনো দেশের বিরাট জনসংখ্যা এর ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত কৃষকেরাই দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত।
বিশ্বের অনেক দেশ আছে, যাদের অর্থনীতিতে দুগ্ধশিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমাদের দেশের জনসংখ্যা বেশি। আমরা যদি দুগ্ধশিল্পের উন্নয়ন করতে পারি তাহলে এ খাতে অনেক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে, একই সঙ্গে অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে।
আমার জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে গ্রামে। তাই গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের আনন্দ-বেদনা গভীরভাবে উপলব্ধি করি। আমাদের ছোটবেলায় গরুর প্রধান কাজ ছিল লাঙল ও গাড়ি টানা। এখন গরু দুধ ও মাংসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে।
খাদ্যতালিকার এক নম্বর স্থানে রয়েছে দুধ। আমরা জানি, মায়ের দুধ পান করলে শিশুদের পানি খেতে হয় না। স্বাস্থ্যসম্মত জাতি তৈরি করতে দুধের বিকল্প নেই। তা ছাড়া দুগ্ধশিল্প কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
দেশের ব্যাপক দুধের চাহিদা সরকারিভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি খাত, বিভিন্ন সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখন অল্প জায়গায় অনেক বেশি ঘাস চাষ করা যায়।
আপনারা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এটা প্রশংসা করার মতো। দুগ্ধশিল্পের ক্ষেত্রে ফ্যাট বেজড মূল্য নির্ধারণ প্রয়োজন। আমি আশা করব, শুধু উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা না, সারা দেশেই আপনারা এভাবে কাজ করবেন, যেন দুগ্ধশিল্পের উন্নয়ন ঘটে। এ ক্ষেত্রে আমাদের আন্তমন্ত্রণালয়ের মধ্যেও বৈঠক করা প্রয়োজন। আপনাদের সব ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

জেমি টার্জি: ‘কেয়ার ডেইরি ভ্যালু চেইন প্রকল্প’ কেয়ার বাংলাদেশের অন্যতম সফল প্রকল্পের একটি। ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেঁস ফাউন্ডেশনের’ অর্থায়নে ২০০৭ সালে কেয়ার বাংলাদেশে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু করে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৯টি জেলায় দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ৫২ হাজার পরিবারকে সাহায্য করতে সক্ষম হয়েছি। এই প্রকল্প গাভির খাদ্য ও পুষ্টিমানের উন্নয়ন, বাজাের প্রবেশাধিকার, মানসম্পন্ন উপকরণ ও সেবা এবং সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা নিশ্চিতকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক–এর আড়ং ডেইির, কেয়ার ডেইরি প্রকল্পের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে।
প্রকল্পটি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আড়ং ডেইরির মাধ্যমে ১১১টি ডিজিটাল ফ্যাট টেস্টিং মেশিন স্থাপন করেছে, যা প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী দুগ্ধ খামারিদের মানসম্পন্ন দুগ্ধ উৎপাদন, উন্নত সেবা ও উপার্জন বাড়াতে অবদান রেখেছে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, একটা বা দুইটা গরু হলেই একটি পরিবার দারিদ্রে্যর চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। সেটি নিশ্চিত করতে হলে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করতে হয়। কেয়ার ডেইরি প্রকল্প প্রকৃত অর্থেই দুগ্ধশিল্প খাতে প্রয়োজনীয় অনেক পরিবর্তন আনতে পেরেছে।
আড়ং ডেইরির ব্যবসার পরিচালনা ব্যয় কমানো ও দুধের মান উন্নয়নে প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। দুগ্ধখাতে আমাদের এই সাফল্য পুরো দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।
এই লক্ষ্যে সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। একটি কার্যকর দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানেও আমরা প্রস্তুত। দুগ্ধশিল্প খাতে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে হবে, যেন এটা আরও নারী ও ক্ষুদ্র খামারি-বান্ধব হয়ে ওঠে।

মো. আনিসুর রহমান: বিশাল পরিমাণ গুঁড়া দুধ বাংলাদেশে আমদানি হয়। এ জন্য ট্যারিফ কমিশনে গিয়েছিলাম। ওখান থেকে বলা হলো, বাংলাদেশে যে গুঁড়া দুধ আমদানি হয় এটা জরুরি শিশুখাদ্য।
বছরে ৭০ হাজার মেট্রিক টন গুঁড়া দুধ আমদানি হয়। এর ১০ শতাংশ শিশুখাদ্য অর্থাৎ মাত্র ৭ হাজার মেট্রিক টন গুঁড়া দুধ শিশুখাদ্য। বাকি ৬৩ হাজার মেট্রিক টন গুঁড়া দুধ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আসছে।
বাণিজ্যিক গুঁড়া দুধের ৫০ শতাংশ মোড়কজাত করে বিক্রি হয়। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ আছে বিস্কুট, কুকিস, ব্রেড ও আইসক্রিম শিল্পে ব্যবহারের জন্য। সরকারের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে হবে, যেন কর বাড়ে এবং ধীরে ধীরে আমদানি কমে।
আমরা বেশি করে দুধ সংগ্রহ করতে পারি। অতিরিক্ত দুধ দিয়ে গুঁড়া দুধ বানাতে হবে। কিন্তু আমাদের গুঁড়া দুধের মূল্যের তুলনায় বাজার থেকে ক্রেতারা কম মূল্যে বিদেশি গুঁড়া দুধ কিনতে পারবে। তাই আমদানিকৃত গুঁড়া দুধের ওপর কর না বাড়ালে আমরা টিকে থাকতে পারব না।
৪ শতাংশ ফ্যাটের এক লিটার দুধের দাম পড়ে ৪২ টাকা। প্রায় ৫৩ ডলার সেন্ট। ইউরোপে এর খরচ হলো ২৮ ডলার সেন্ট। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ২৪ ডলার সেন্ট। যদি আমদানিকারীরা ১০০ শতাংশ করও দেয় তাহলেও তাদের ব্যবসা হবে।
বর্তমান অবস্থায় কোনোভাবেই আমরা গুঁড়া দুধ উৎপাদন করতে পারি না। একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গুঁড়া দুধ আমদানি যেন বন্ধ হয় সে বিষয়ে সরকারের কাজ করা প্রয়োজন। গ্রামীণ এলাকায় আমাদের ১০২ প্রতিষ্ঠানে পল্লি বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। ক্ষুদ্র শিল্পের আওতায় বিল দিতাম। ২০০৯ সালে কর্তৃপক্ষ বলল, আমাদের শিল্প হিসেবে প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৪২ পয়সা হারে বাণিজ্যিক বিল দিতে হবে। এখন এটা নিয়ে মামলা চলছে। মামলার পেছনে দৌড়াব না কাজ করব।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশে দুগ্ধশিল্প সরকারের বিশেষ সহায়তা পায়। এসব ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সমর্থন ছাড়া আমরা কাজ করতে পারব না।

আইনুল হক: প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে ১৯৩০ সাল থেকে দুগ্ধশিল্প গড়ে উঠেছে। টাঙ্গাইল ও পাবনায় প্রথম দুগ্ধশিল্পের সূত্রপাত হয়। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় নতুনভাবে আবার দুগ্ধশিল্প শুরু হয়। এ সময়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ সার্বিক উন্নয়নের কাজ করতে থাকে।
আমরাই প্রথম দুগ্ধশিল্পের কাজ শুরু করি। তখন আমাদের পাশে কেউ ছিল না। আজ বিভিন্ন এনজিও, প্রথম আলোর মতো প্রথিতযশা সংবাদপত্র আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। এ শিল্পের জন্য এটা একটা বড় ধরনের অর্জন। এখন মিল্ক ভিটার পাশাপাশি আড়ং ও প্রাণ ডেইরি ফার্মের মতো প্রতিষ্ঠান দুধ সরবরাহের কাজ করছে। এ ছাড়া অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান এ কাজের সঙ্গে যুক্ত আছে।
১৯৭১ সালে দুধের উৎপাদন ছিল ১ লাখ মেট্রিক টন। ২০০০ সালে উৎপাদন ছিল ২ লাখ মেট্রিক টন। আর ২০১৬ সালে আমাদের হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন ৭২ লাখ মেট্রিক টন। দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অর্ধেক। এখনো আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।
একজন মানুষের যে পরিমাণ দুধ খাওয়া প্রয়োজন, এখন তার অর্ধেক খেতে পারছে। দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। দেশের অনেক জায়গায় ফসলের পরিবর্তে গরুর খাবারের ঘাস চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
গত বছর আমরা ১২ লাখ খামারিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। মানসম্পন্ন বুলের মাধ্যমে প্রজনন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আমাদের বুল প্রকল্প আছে। আমরা বিভিন্নভাবে এ শিল্পের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

মোছা. আম্বিয়া খাতুন: প্রথমে আমার একটা গাভি ছিল। এর দুধ হতো ৮ থেকে ১০ লিটার। এ দুধ খোলাবাজারে বিক্রি করতাম। দুধের দাম ছিল খুব কম। আধুনিক পদ্ধতিতে কীভাবে গাভি পালন করতে হয়, কী পরিমাণ খাবার দিতে হবে, কখন কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে, ভ্যাকসিন দিতে হবে, থাকার জায়গা কেমন হতে হবে—এসব আমরা জানতাম না।
কেয়ার বাংলাদেশ আমাদের এলাকায় এল। গাভি পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করল। আমাদের প্রশিক্ষণ দিল। তাদের কাছ থেকে জানলাম তিন মাস পরপর কৃমির বড়ি খাওয়াতে হবে। রোগের আগে চারটি ভ্যাকসিন দিতে হবে ইত্যাদি।
কেয়ারের উদ্যোগে এখন আমাদের এলাকা থেকে ব্র্যাক দুধ কেনা শুরু করেছে। এখন আমরা ডিজিটাল ফ্যাট টেস্টিংয়ের মাধ্যমে সহজেই ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠানে দুধ বিক্রি করতে পারি। এখন ফ্যাটের ওপর মূল্য পাই। দুধের মান বৃদ্ধিতে আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কীভাবে ফ্যাট বেশি হয়, সেটাও আমরা একজন আরেকজনের কাছ থেকে জানতে পারি।
আগে গরুর খাবার বাজার থেকে আনতে হতো। এখন কৃষি উৎসের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই গরুর খাবার পেয়ে যাই। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মূলধনের। আমাদের এলাকায় সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন শর্ত ও বিধিবিধানের জন্য আমরা নারীরা নিতে পারছি না। সরকার যেন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করে।

মোস্তফা নূরুল ইসলাম: ডেইরি শিল্পের অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আরও হবে। যেমন গাভির জাত একটা বড় সমস্যা। দেশীয় জাতে দুধ কম হওয়াসহ অনেক সমস্যা রয়েছে। মানসম্পন্ন উপকরণের অভাব রয়েছে। ঋণের সমস্যা রয়েছে ইত্যাদি। এখন দেশে দুধের চাহিদা ১ কোটি ৪৭ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ৭২ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারছি। আমরা যদি দুধের পূর্ণ উৎপাদনে যেতে চাই তাহলে ভেটেরিনারি সেবার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু সরকারের পর্যাপ্ত জনবল নেই। একটি উপজেলায় একজন প্রাণিসম্পদ অফিসার, একজন ভেটেরিনারি সার্জন, তিনজন সহকারী। একটি উপজেলায় এই পাঁচজন মানুষ প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে জড়িত।
সারা দেশের উপজেলাগুলোতে আড়াই হাজার মানুষ ভেটেরিনারি সেবার সঙ্গে যুক্ত। এই মুহূর্তে ধারণা করছি, গরু আছে ২ কোটি ৫০ লাখ। এ ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার গরুর জন্য একজন সেবাদানকারী। শুধু গরু না, এই জনবলকেই মহিষ ও ভেড়ার সেবাও দিতে হয়। তাই দক্ষ জনবল না থাকলে এ শিল্পের উন্নয়ন হবে না। আবার ইচ্ছে করলেও জনবল বাড়াতে পারব না।
আমরা কেয়ারসহ কয়েকটি সংস্থা ১০ দিনের একটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিছু সেবাকর্মী তৈরি করছি, যাঁরা ভেটেরিনারি সেবাগুলো দিতে পারবেন। তাঁরা এখন মাঠে কাজ করছেন। গড়ে প্রতিজন ২৫ হাজার টাকা করে আয় করছেন। আমরা ডিজিটাল ফ্যাট টেস্টিং, খামার ব্যবস্থাপনা, দুগ্ধশীতলীকরণকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।
সরকারের বেকার সমস্যা দূর করার দায়িত্ব রয়েছে। সরকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে এ পেশায় আনতে পারে। এতে একই সঙ্গে বেকার সমস্যা দূর হবে, আবার প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন হবে।

গোলাম মোস্তফা: ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের পাঁচটি অঞ্চলকে মিল্ক ভিটা দুধ উৎপাদনের জন্য নির্বাচন করেছিলেন। এগুলো হলো টেকেরহাট, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা ডেইরি। আজ মিল্ক ভিটা উৎপাদনকারী সমবায়ীর সংখ্যা ২ হাজার ৪০০। এসব সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন ১ লাখ ২৪ হাজার মানুষ।
নিজস্ব সমবায়ীগুলোর মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করা হয়। ৭টি বিভাগের ২৮টি জেলায় ৪২টি দুধ শীতলীকরণ কারখানা আছে। এখন প্রতিদিন ২ লাখ লিটার তরল দুধ সংগ্রহ করি। ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার লিটার তরল দুধ সরবরাহ করি। অবশিষ্ট দুধ সিরাজগঞ্জে গুঁড়া দুধ করা হয়। দুধের মান অনুসারে ২২ থেকে ৫২ টাকা পর্যন্ত কৃষককে প্রতি লিটার দুধের মূল্য দিই।
দুধের মান কমে গেলে কৃষক সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত হন। বর্তমান সরকার প্রান্তিক, ভূমিহীন ও দরিদ্র খামারিদের একত্র করে মডেল খামার করার উদ্যোগ নিয়েছে। একটা মডেল খামারের জন্য ১১ লাখ টাকা দিই।
সাধারণ খামারিদের প্রতিটি গাভির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিই। যদিও এখন একটি ভালো জাতের গাভির মূল্য এর থেকেও বেশি। এ ক্ষেত্রে দরিদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া জরুরি। এখানে দেশের ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
দেশের সব জায়গার খাস জমিগুলোকে চারণভূমি করে দুগ্ধশিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধুনিক গোখাদ্য প্ল্যান্ট করেছি। এখানে ঘণ্টায় ৫ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। কেবল উৎপাদন খরচে এ খাদ্য খামারিদের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে।
আমাদের সরকার বিভিন্নভাবে খামারিদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। দুগ্ধশিল্প খাতের উন্নয়ন করতে হলে একে জরুরি খাত হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, সরকারের কাছে এটাই আমার অনুরোধ।

হাসান ইমাম: একটা গ্রামীণ পরিবারকে আমরা ধাপে ধাপে স্বনির্ভর করার ক্ষেত্রে কাজ করি। দুগ্ধশিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়েও আমরা কাজ করি। আমরা একটা পরিবারকে চারটা গরু ও একটা বায়োডাইজেস্টার দিয়ে থাকি। এর মাধ্যমে গরুর যে গোবর হয়, সেটা দিয়ে দুটো বার্নার চালানো যায়।
উত্তরাঞ্চলে যেখানে গ্যাস যায়নি, সেখানে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। গত পাঁচ বছরে তিন হাজার পরিবারকে সহায়তা দিয়েছি। আমরা এক হাজার পরিবারে জরিপ করে দেখেছি, তাদের আয় ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে লোনের দরখাস্ত, ব্যাংক হিসাব, ট্রেড লাইসেন্স, জমির দলিলসহ আরও কিছু বিষয় প্রয়োজন হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অধিকাংশেরই এসবের কিছুই থাকে না। আবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার প্রয়োজন বুঝে তঁাকে সহায়তা করবে—এমন মনোভাব বা সময় তাদের নেই।
ব্যাংক ঋণের সুদও এঁদের পক্ষে কোনোভাবে বহন করা সম্ভব না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ শতাংশ খরচের ঋণ নিলেও সব মিলিয়ে এর ৯ থেকে ১০ শতাংশ সুদ পড়ে যায়। তবে এসব নিয়ে আমরা কাজ করছি।
আরেকটা সমস্যা হলো, একটা পরিবারকে যখন আয়ের উৎস দিচ্ছি তখন নারীদের বাড়িতে কাজের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের অনেকের শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। বিশ্রামের সময় পায় না ইত্যাদি। যেমন অনেকক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করলে আঙুলসহ শরীরে কার্পাল টানেল সিনড্রোম হয়, তেমনি মেয়েদের অনেকক্ষণ গরুর দুধ দোয়ানোর ফলে এমন সমস্যা হয়। এসব বিষয় সবার বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মো. রাকিবুর রহমান: বাংলাদেশে ১৬ কোটির বেশি মানুষ। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে দেশের জনসংখ্যা কোনো সমস্যা না। প্রাণ মনে করে, জনসংখ্যা সম্পদ। বাংলাদেশে আমরা প্রথম প্রাণ ডেইরি হাব গঠন করি।
হাবগুলো রয়েছে চাটমোহর, নাটোর, রংপুর, পাবনা ও শাহজাদপুরে। ৬৪ জেলায় আমাদের হাব তৈরির পরিকল্পনা আছে। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, ডেইরি ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ডেইরি শিল্পে মানবসম্পদের অভাব দূর করার লক্ষ্যে নাটোরে ডেইরি একাডেমি স্থাপন করি।
বাংলাদেশ টেকনিক্যাল বোর্ডের কারিকুলাম ও রেজিস্ট্রেশন নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি। এখানে চারটি বিষয় রয়েছে। ডেইরি খামার, বিনিয়োগকারী, বাজার, সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা।
এ দেশের দুগ্ধশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমদানি দুধের ওপর কর বাড়াতেই হবে। একসময় গুঁড়া দুধ আমদানিকারকদের ৫২ শতাংশ কর দিতে হতো। সেটা এখন অনেক কমে গেছে।
গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কারখানা স্থাপন করতে পারছি না। ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কাকে বলব? সরকারকে বারবার বলি, আমাদের কথা শোনে না। সরকার আমাদের সহযোগিতা করলে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করতে পারি।

এফ এইচ আনসারী: সরকারকে ধন্যবাদ। কারণ, তারা পোলট্রি ও মৎস্যশিল্পকে সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছে। এ দুটি খাতে আজ বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। আমরা আশা করি, সরকার প্রাণিসম্পদকেও সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেবে।
ডেইরির প্রায় সব ধাপেই আমরা কাজ করি। দেশে সম্ভবত ব্রিডিং (প্রজনন) করার মতো গরু আছে ১ কোটি ২০ লাখ। এর মধ্যে ৯০ লাখের মতো দুধ দেয়। কৃত্রিম ব্রিডিং সরকার করে থাকে ৩০ লাখ। ব্যক্তি খাতে হয় ১৫ লাখ।
মিক্সড ব্রিডের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ৫ লিটার দুধ পাওয়া যায়। স্থানীয় ব্রিডের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৫ লিটার দুধ পাওয়া যায়।
এখন বড় প্রশ্ন হলো, আমরা বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্য—সবই দিলাম। সবকিছু করার পরও যদি স্থানীয় ব্রিডই প্রচলিত থাকে, তাহলে সব অর্জনই বৃথা যাবে।
তিন বছর ধরে চেষ্টা করেও ব্রিডের ক্ষেত্রে কোনো সমাধানে আসতে পারছি না। পোলট্রি ও মাছে যে বিপ্লব হয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। প্রাণিসম্পদও সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাহলে এ খাতেরও ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গরুর স্বাস্থ্যের বিষয়। খুরারোগে ৫০ শতাংশ গরু আক্রান্ত হয়। আবার গরুর ওলান ফোলা রোগ হয়। কৃমিতেও গরু ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব কারণে গরুর দুধ কমে যায়। এসব রোগের সমাধান রয়েছে। খাদ্যশিল্প কেবল শুরু হয়েছে।
সরকারের কাছে আমার আন্তরিক অনুরোধ, ব্রিডিং যেন সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাহলেই এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব।

মারুফ আজম: আবহমান কাল ধরে মানুষ নিজের প্রয়োজনেই পশু পালন করেছে। এখন এ কাজটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হচ্ছে। তবে বড় প্রশ্ন হলো, যাঁরা খামারি, তাঁরা এটাকে কীভাবে দেখছেন। তাঁরা কি আদৌ লাভজনক ব্যবসা হিসেবে দেখছেন? নাকি অন্য কোনো উপায় না পেয়ে খামার করছেন। বিষয়টা বিশেষভাবে ভাবতে হবে।
এটা সত্যি যে উন্নত জাতের অভাব আছে। কিন্তু এর থেকেও বড় বিষয় হলো, খামারিরা কি উন্নত জাত খুঁজছেন? আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, কম খরচে যা পাওয়া যায় খামারিরা সেটা গ্রহণ করেন। তাঁদের অধিকাংশই মান সম্পর্কে ভাবছেন না। কারণ, দুধ বিক্রি করে তাঁরা প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন না। তাঁরা যদি ভাবতেন এই শিল্পে কাজ করলে তাঁদের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ হবে, তাহলে উন্নত জাতসহ সব বিষয়ে তাঁরা সচেতন হবেন। প্রায় ৫২ হাজার খামারিকে সহায়তা দিচ্ছি। এটা খুব সামান্য অংশ। প্রাইভেট কোম্পানিগুলো বড়জোর জেলা-উপজেলা পর্যন্ত যায়। তারপর কী? গ্রামাঞ্চলের সব দুধ সংগ্রহ করেন ফড়িয়ারা।
আমাদের গরুর খাবার, ওষুধ কতটা মানসম্পন্ন? এসব ক্ষেত্রে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খামারিরা কীভাবে ঋণ পাবেন? অধিকাংশ খামারির ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে ন্যূনতম কোনো ধারণা নেই। অধিকাংশেরই ব্যাংক হিসাব নেই। এসব ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কিছু করণীয় ছিল, করতে পারিনি।
ভেটেরিনারি সেবা দিচ্ছেন অদক্ষ সেবাদানকারী। যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সে বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটা তথ্যভান্ডার থাকা জরুরি। আমাদের খামারিদের কোনো তথ্য নেই, ফলে তঁাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

আনোয়ারুল হক: দুগ্ধশিল্পের খসড়া জাতীয় নীতিমালায় দুধ কেনার প্রক্রিয়া ননিভিত্তিক (ফ্যাটবেজড) করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুধের গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি দুগ্ধশিল্পে জবাবদিহিকে উৎসাহিত করা যায়।
ব্র্যাক ডেইরির সঙ্গে আমরা ‘ডিজিটাল ফ্যাট টেস্টিং মেশিন’-এর মাধ্যমে খামারিদের কাছ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুধ কেনার প্রক্রিয়া করেছি। যঁার দুধে যত বেশি ননি থাকবে তিনি তত বেশি দাম পাবেন। এতে দেখা গেল, ছোট খামারিরা প্রতিলিটারে ৫৪ টাকা পর্যন্ত দাম পাচ্ছেন। এর ফলে তঁারা উৎপাদন বাড়াতে এবং দুধের মান বাড়াতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। দুগ্ধশিল্প বিকাশের স্বার্থে সারা দেশে ননিভিত্তিক দুধ কেনার ব্যবস্থা চালু করা দরকার। আমরা এই প্রযুক্তির বিস্তারে আগ্রহী ব্যক্তিদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
দুগ্ধশিল্পকে অবশ্যই অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। এই খাত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বেশ কয়েকটি লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। দুগ্ধশিল্প দারিদ্র্য বিমোচনে, জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরিতে, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় এবং জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে ২০০০ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল বছরে ২ লাখ মেট্রিক টন তা এখন হয়েছে ৭২ লাখ মেট্রিক টন। তার অর্থ হলো, এখন লাখ লাখ পরিবার গাভি পালনের সঙ্গে জড়িত। আমাদের একটি ন্যাশনাল ডেইরি বোর্ড আছে কিন্তু তা প্রায় অকার্যকর।
সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোক্তা এবং খামারিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি করা দরকার, যে কমিটি এই খাতের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার সুপারিশ এবং অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবে।
নারায়ণ চন্দ্র চন্দ: এতক্ষণ আলোচনায় অনেক বিষয় এসেছে। আমরা মাঠপর্যায়ে কিছু প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কয়েকটি ভেটেরিনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে। এটা হলে শিক্ষিত মানুষ এ পেশায় চলে আসবেন। ক্রস ব্রিডিংয়ের বিষয়েও খামারিদের জানা প্রয়োজন।
আর্থিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় এসেছে। এ ক্ষেত্রে আমরা এককভাবে কিছু করতে পারি না। অর্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়—তাদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আবার প্রতিটি মন্ত্রণালয়েরই নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা থাকে। আমাদের নেতৃত্বে এসব নিয়ে সমন্বিতভাবে আলোচনা হতে পারে।
আমরা আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতে পারি। তিনি প্রতিটি বিষয়ে ব্যাপক ধারণা রাখেন। দুগ্ধশিল্পের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে আমার বিশ্বাস। একজন দুগ্ধশিল্পকে সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। ব্যক্তি খাতে কিছু কিছু এসেছে। আরও আসা প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ বিষয়টা কিছুটা দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়ে গেছে।
ভারত, পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বে ব্যক্তি খাতে দুগ্ধশিল্পের ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের দেশেও হওয়া প্রয়োজন। জাত উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটা বিপর্যয় হতে পারে, এই কারণে ব্যক্তি খাতকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না।
আমি মনে করি, যতটুকু অনুমতি দিলে জাত উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকে না, সে পর্যন্ত অবশ্যই ব্যক্তি খাতকে অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। আমি কয়েকটি বিষয়ে নোট নিয়েছি, এসব বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করব।
আব্দুল কাইয়ুম: দুগ্ধশিল্প ব্যাপক সম্ভাবনাময় একটা খাত। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায় থেকে কাজ করতে হবে।
আলোচনায় এসেছে দেশে মোট দুধের চাহিদার অর্ধেক উৎপাদিত হচ্ছে। অতিরিক্ত দুধের চাহিদা মেটাতে হলে মাছ ও পোলট্রিশিল্পের মতো দুগ্ধশিল্পকেও ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ভাবা প্রয়োজন।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
যাঁরা অংশ নিলেন
নারায়ণ চন্দ্র চন্দ : সাংসদ, প্রতিমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
আইনুল হক : মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
জেমি টার্জি : কান্ট্রি ডিরেক্টর, কেয়ার বাংলাদেশ
মারুফ আজম : জেনারেল ম্যানেজার, কৃষি উৎস
গোলাম মোস্তফা : পরিচালক, মিল্ক ভিটা
আনোয়ারুল হক : ডিরেক্টর, ইআরপিপি (গ্রামীণ অতিদরিদ্র কর্মসূচি), কেয়ার বাংলাদেশ
মো. আনিসুর রহমান : মহাপরিচালক, ব্র্যাক ডেইরি ও ফুড প্রজেক্ট
এফ এইচ আনসারী : নির্বাহী পরিচালক, এসিআই এগ্রিবিজনেস, এসিআই লি.
হাসান ইমাম : চেয়ারম্যান, অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন এনাবলিং প্রজেক্টস অ্যান্ড অর্গানাইজেশন (স্টেপস ওআরজি)
মো. রাকিবুর রহমান : ডেইরি চিফ (এক্সটেনশন), প্রাণ আরএফএল গ্রুপ
মোস্তফা নূরুল ইসলাম : টিম লিডার, ডেইরি ভ্যালু চেইন প্রকল্প, কেয়ার বাংলাদেশ
মোছা. আম্বিয়া খাতুন : খামারি দলনেতা, ডেইরি ভ্যালু চেইন প্রকল্প
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো