সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধূরীর মর্মান্তিক মৃত্যু

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াদির বিশ্লেষক জগলুল আহমেদ চৌধূরী (৬৫) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাসের ধাক্কায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সর্বশেষ ইংরেজি দৈনিক ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। দেশের এই প্রবীণ সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক জানিয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সোয়া আটটার দিকে বাংলামোটর হয়ে আসা একটি মিনিবাস কারওয়ান বাজারে সোনারগাঁও মোড়ে পুলিশের ট্রাফিক বক্সের সামনে থামে। জগলুল আহমেদ ওই মিনিবাস থেকে নামার জন্য পা বাড়ান। কিন্তু তিনি এক পা নামানোর সঙ্গে সঙ্গে বাসটি সজোরে টান দেয়। এতে তিনি সড়কে পড়ে গিয়ে ওই মিনিবাসের এক পাশের সঙ্গে মাথায় প্রচণ্ড ধাক্কা খান। সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি। মিনিবাসটি দ্রুতগতিতে ফার্মগেটের দিকে চলে যায়। তিন যুবক তাঁকে ধরাধরি করে রাজধানীর পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে গ্রিন রোডের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ইমরুল কায়েস নামের এক যুবক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রক্তাক্ত অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ সড়কেই পড়ে ছিলেন ওই যাত্রী (জগলুল আহমেদ চৌধূরী)। মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছিল। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে তাঁকে ধরি। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কয়েকটা গাড়িকে হাত নেড়ে থামতে বললেও কেউ শোনেনি। পরে আমরা তিনজন ধরাধরি করে পান্থপথের একটি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে কোনো চিকিৎসা না দেওয়ায় আমরা গ্রিন রোডের আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তাঁকে মৃত ঘোষণার পর আমি তাঁর মুঠোফোন ঘেঁটে বিভিন্ন নম্বরে ফোন করে অ্যাক্সিডেন্টের কথা জানাই। জানতে পারি, তিনি একজন বড় মাপের সাংবাদিক।’
রাতে জগলুল আহমেদের লাশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভিড় করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বন্ধু-স্বজনেরা।
দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর উপস্থাপনায় এটিএন বাংলায় প্রচারিত টক শোতে সার্কসংক্রান্ত আলোচনার একজন অতিথি ছিলেন জগলুল আহমেদ। রাত ঠিক আটটার দিকে জগলুল আহমেদ তাঁকে ফোন করে জানান, তিনি কারওয়ান বাজার পৌঁছে গেছেন। টক শো অনুষ্ঠান ধারণের সময় ছিল সাড়ে আটটা। কিন্তু অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও তিনি আসছিলেন না দেখে তিনি বারবার তাঁর মুঠোফোন নম্বরে কল করেন। কিন্তু কেউ ধরছিল না। পরে একজন অতিথি দিয়েই টক শো অনুষ্ঠান ধারণ করা হয়। পরে আবার ফোন করলে এক যুবক ধরে দুর্ঘটনার কথা জানান।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল জানান, মিনিবাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বনানীর ৬ নম্বর রোডে এক বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন জগ্লুল আহ্মেদ। তাঁর দুই সন্তান। বড় ছেলে নাভিদ আহমেদ চৌধূরী একটি মুঠোফোন কোম্পানির কর্মকর্তা। মেয়ে অন্তরা আহমেদ চৌধূরী পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
জগলুলের স্বজনেরা জানান, সব সময় ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাফেরা করেন তিনি। কিন্তু গতকাল চালক আসেননি। তাই গাড়ি ছাড়াই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। ধানমন্ডির বোনের বাসা হয়ে ঢাকা ক্লাবে যান। সেখান থেকে রাতে বাসযোগে কারওয়ান বাজার রওনা দিয়েছিলেন।
স্বজনেরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেয়ে আসার পর জগলুলের দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। লাশ বিএসএমএমইউর হিমঘরে রাখা হয়েছে।