উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কেয়া চৌধুরী
কেয়া চৌধুরী

সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার অভিযোগে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া ও জেলা পরিষদ সদস্য আলাউর রহমান ওরফে শাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় ঢাকার ডেমরা থানার কদমতলী এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল হবিগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে এ দুজনকে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। বিচারক তৌহিদুল ইসলাম ১০ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর বাহুবলের তিতারকোনা বেদেপল্লিতে সরকারি অনুদান দেওয়ার জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। সাংসদ কেয়া চৌধুরীকে এতে প্রধান অতিথি করায় ক্ষুব্ধ হন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া এবং হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য ও বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলাউর রহমান। অনুষ্ঠান চলাকালে এই দুজনের নেতৃত্বে হামলা করা হলে কেয়া চৌধরীসহ কয়েকজন আহত হন। এরপর সরকারি কাজে বাধা, নারীর শ্লীলতাহানি ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে মামলা করেন উপজেলার লামাতাসি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য পারভীন আক্তার। ওই ঘটনায় তিনিও আহত হয়েছিলেন।

মামলাটি বাহুবল থানা থেকে হবিগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয় তদন্তের জন্য। কিছুদিন আগে তারা মিয়ার গাড়িচালক জসিম উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঢাকার কদমতলী এলাকায় বিশেষ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা হবিগঞ্জ ডিবির ওসি শাহ আলম জানান, সাংসদের ওপর হামলার পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন। গত মঙ্গলবার ঢাকার কদমতলী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকায় থাকাকালে তিনি হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চে আগাম জামিন চেয়েও পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জসিম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া তারা মিয়া গত ৪ নভেম্বরের উপনির্বাচনে বাহুবল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আজ বৃহস্পতিবার সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তাঁর শপথ নেওয়ার কথা ছিল।

 তারা মিয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ

শুধু এ অভিযোগই নয়, তারা মিয়ার বিরুদ্ধে আছে খুনের মামলা, এলাকায় জুয়া খেলার আসর পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ। যে কারণে ১০ মাস আগে বাহুবল উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাঁকে সরাতে যুবলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ পুরো উপজেলা কমিটি বাতিল করে।

বাহুবলের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, উপজেলার মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন তারা মিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জুয়া খেলার আসরসহ নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে এ-সংক্রান্ত মামলা হয়। এ মামলায় পুলিশ তারা মিয়াসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

তারা মিয়ার বিরুদ্ধে আছে খুনের মামলা। ২০০৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি খুন হন বাহুবল উপজেলার স্বর্ণরেখ গ্রামের দরবেশ মিয়া। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই জিতু মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তারা মিয়াসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার বাদী জিতু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘তারা মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ফলে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি।’