সাংসদের পাঁচ সমর্থককে মারধর, কার্যালয়ে ভাঙচুর

নাটোর-১ আসনের সাংসদ মো. আবুল কালামের পাঁচ সমর্থককে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তাঁর প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংসদ এবার সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি, এ ঘটনা জানার পর এ হামলা হয়। এ সময় প্রজন্ম লীগের স্থানীয় কার্যালয়সহ তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে।

লালপুর উপজেলার আবদুলপুর স্টেশনবাজারে এ ঘটনা ঘটে। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ মো. আবুল কালামের সঙ্গে তাঁর ভাতিজা শামীম আহম্মদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছিল। তাঁরা উভয়ই এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, গতকাল দুপুরে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বর্তমান সাংসদের এলাকা আবদুলপুর স্টেশনবাজার এলাকায় তাঁর প্রতিপক্ষের লোকজন মারমুখী হয়ে ওঠে। সন্ধ্যায় যুবলীগের কর্মী রেজাউলের নেতৃত্বে একদল যুবক আবদুলপুর স্টেশনবাজারে প্রজন্ম লীগের কার্যালয়ে হামলা চালায়। সাংসদের ছেলে প্রায়ই এ কার্যালয়ে এসে বসেন। হামলাকারীরা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও টেলিভিশন ভাঙচুর করে ফেলে দেয়।

পরে হামলাকারীরা সাংসদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত সোহাগ হোসেন (২৮), দুলাল হোসেন (৪৫), আকবর আলী (৬০), আবদুল হালিম ও অজ্ঞাত একজনকে (৩২) কাঠের তক্তা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় বাজারে হালিমের কম্পিউটারের দোকান, মাহবুলের মুদি দোকান ও সাদ্দাম হোসেনের সেলুন ভাঙচুর করা হয়। এরপর বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। লোকজন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে লুকিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে লালপুর থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এ খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ বাজারে টহল দিচ্ছিল।

অভিযুক্ত রেজাউল করিম জানান, তিনি ঘটনার সময় বাজারে ছিলেন না।

এ বিষয়ে সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। জানা গেছে, তিনিও ঢাকায় আচেন। তাঁর সমর্থক ও চংধুপইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনকে ফোন দিলে তা তিনি কেটে দেন। বেলাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

শামীম আহম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা কেউ জড়িত নন। এখন তিনি ঢাকায়।

লালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোনারুজ্জামান গতকাল রাতে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে আছেন। বাজারের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।