সাখাওয়াতসহ আটজনের রায় যেকোনো দিন

যশোরের সাবেক সাংসদ সাখাওয়াত হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস, মো. ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম ও মো. আবদুল খালেক।

আসামিদের মধ্যে সাখাওয়াত ও বিল্লাল কারাগারে আছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম প্রথম আলোকে বলেন, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি আজ শেষ হয়েছে। আদালত এই মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর সাখাওয়াতসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

অভিযোগ গঠনের আদেশে নয়জনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন প্রভৃতি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

নয় আসামির মধ্যে মো. লুৎফর মোড়ল নামের একজন কারাবন্দী অবস্থায় মারা যান। এ কারণে তাঁকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। তিনজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগের উপাদান না থাকায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষে বিচার শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, সাখাওয়াত হোসেন ১৯৯১ সালে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পরাজিত হন। এরপর বিএনপি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করলে তিনি অলি আহমদের এলডিপি এবং পরে ফেরদৌস আহম্মেদ কোরেশীর পিডিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ছিলেন এরশাদের জাতীয় পার্টিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য। জাতীয় পার্টিও তাঁকে প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ দিয়েছে।