সাজা পরোয়ানা চার মাসেও পৌঁছায়নি চট্টগ্রাম কারাগারে
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি চার মাস ধরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি (সাজা হয়নি) হিসেবে থাকছেন। কারাবিধি অনুযায়ী তাঁর কয়েদি (সাজাপ্রাপ্ত আসামি) হিসেবে থাকার কথা। তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, সাজা পরোয়ানা না পাওয়ায় আসামিকে হাজতি হিসেবে রাখা হয়েছে। কারাগারে হাজতি ও কয়েদিদের মধ্যে সুবিধার ফারাক রয়েছে। কয়েদিদের বিশেষ পোশাক পরতে হয়।
সাজা ঘোষণার নয় বছর পর ২০১৫ সালের নভেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয় আসামি মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে খোকনকে। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি হত্যা মামলা।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ এ এন এম বশির উল্যাহ রাঙ্গুনিয়ায় আবদুস সোবহান খুনের মামলায় শহিদুল ইসলাম ওরফে খোকনসহ ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার পর থেকে শহিদুল পলাতক ছিলেন। ১৯৯১ সালে ওই খুনের ঘটনা ঘটে।
গত বছরের ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকা থেকে অন্য আরেকটি হত্যা মামলায় শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ (জেলার) মো. মাহবুবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা আছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তাঁর জামিন হয়েছে। দুটি মামলায় আটক আছেন তিনি। ‘খোকন’ নামে তাঁকে কারাগারে গ্রহণ করা হয়। খোকনের বাবার নাম আবুল কাশেম এবং গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া।
এক প্রশ্নের জবাবে কারাধ্যক্ষ বলেন, ‘আমাদের কাছে খোকনের কোনো সাজা পরোয়ানা আসেনি। এ কারণে তিনি হাজতি হিসেবে বন্দী আছেন।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাবেক সরকারি কৌঁসুলি কফিলউদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘রায় ঘোষণার পর আদেশটি আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। পলাতক আসামির ক্ষেত্রে তা তামিল করার দায়িত্ব ওই থানার পুলিশের। থানার পুলিশ বিষয়টি কোর্ট পুলিশকে জানাবে। কোর্ট পুলিশ আদালতের মাধ্যমে তা কারা কর্তৃপক্ষকে জানাবে। এর কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট আসামি হাজতি হিসেবে কারাবাস করবে, এটাই স্বাভাবিক।’
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহিদুলের নামে কোনো পরোয়ানা থানায় মুলতবি নেই।’
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাঙ্গুনিয়ার জিল্লুর রহমান খুনের ঘটনায় করা মামলারও আসামি শহিদুল। এই মামলার তদন্ত করছেন সিআইডির পরিদর্শক আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘আবদুস সোবহান খুনের মামলায় শহিদুলের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। কিছুদিন আগে শহিদুলকে জিল্লুর রহমান খুনের মামলায় দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সে কয়েদির পোশাকে ছিল না।’
শহিদুলের সাজা পরোয়ানা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কেন পৌঁছায়নি তা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান গত বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।