সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কে অসংখ্য গর্ত, ভোগান্তি

খানাখন্দে ভরা সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়ক। সাতক্ষীরা শহরের বাঁকাল এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো
খানাখন্দে ভরা সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়ক। সাতক্ষীরা শহরের বাঁকাল এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো

সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির সময় কাদা আর রোদে ধুলার শহরে পরিণত হয় সাতক্ষীরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ওই সড়কের শহরের সার্কিট হাউস এলাকা থেকে বাঁকাল পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার চলাচলের অনুপযোগী। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের। কোথাও কোথাও ইট-পাথর উঠে গেছে। সড়কের আলীপুর থেকে নলতা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়কের একাধিক স্থানে একই অবস্থা।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সার্কিট হাউস এলাকা থেকে বাঁকাল পর্যন্ত সড়ক বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। অন্য সময় ধুলার কারণে লোকজন মুখে রুমাল চেপে চলাচল করেন। গত ১০ অক্টোবর সড়কের বাঁকাল অংশে ইটবোঝাই একটি ট্রলি উল্টে যায়। ট্রলিচালক সদর উপজেলার আলীপুর গ্রামের মহিউদ্দিন বলেন, ‘ভাই প্রতিদিনই এই সড়কে গাড়ি উল্টে যায়। সড়কের যে হাল তাতে যে চালকরা ঝুঁকি নিয়া গাড়ি চালায় তাগো একটু ধন্যবাদ দেন।’
যাত্রীবাহী বাসের চালক আবদুর রহমান বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন যাত্রীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়। দ্রুত গাড়ি চালানো যায় না। সময় লাগে বেশি। টায়ারসহ গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন।
মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সাতক্ষীরায় যাতায়াত করেন দেবহাটা উপজেলা সদরের আবদুল হক ও গাজিরহাটের দেবু রায়। তাঁরা বলেন, বাড়ি থেকে শহরে যাওয়ার পর শার্ট-প্যান্ট পাল্টে ফেলতে হয়। ধুলায় নিজেদের চেহারা চেনা চায় না। হাঁচি-কাশি তো লেগেই থাকে।
সাতক্ষীরা শহরের মুঠোফোন ব্যবসায়ী কাজী আনিসুজ্জামান বলেন, দোকানে বসা যায় না। দোকান পরিষ্কার করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আবার ধুলায় ভরে যায়। ধুলায় অনেক সময় কয়েক হাত দূরের মানুষও দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও সড়ক মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। একই কথা বলেন, ব্যবসায়ী আবদুল মোমেন, খলিলুর রহমানসহ অনেকে।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদ বলেন, বড় ধরনের মেরামতের জন্য সাতক্ষীরা জেলায় এবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কিন্তু সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কের সাতক্ষীরা শহরের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার অংশের মেরামতকাজের জন্য ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে গত ৪ আগস্ট ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সরেজমিনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আলাউদ্দিন ফকির গত ২৮ জুলাই এই সড়ক পরিদর্শন করে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।