সাথি ফসলে সাফল্য
জমিতে একসঙ্গে দুটি ফসলের (সাথি ফসল) আবাদ করে ৫ শতক জমি থেকে হয়েছেন সাড়ে আট বিঘা জমির মালিক। অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে কৃষিতে এনেছেন বিপ্লব। কৃষিতে তাঁর এই সাফল্যঝুলিতে জমা করেছে বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার, জেলা ও উপজেলা কৃষি পদকসহ নানা পুরস্কার।
তাঁর নাম আমির হোসেন (৪৫)। বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারি গ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দা, আমিরের পরিবার ও সাঘাটা উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আমির হোসেন পৈতৃকসূত্রে ৩ শতক বসতভিটা ও ৫ শতক আবাদি জমি পান। ওই জমিতে ধান চাষে সংসার চলত না। তাই হাটবাজারে কাঁচা তরিতরকারি বিক্রি করতেন। মাসিক আয় ছিল তিন-চার হাজার টাকা। একই বছরের মাঝামাঝি একটি বেসরকারি সংগঠন থেকে ১০০টি পেঁপের চারা নিয়ে ৫ শতক জমিতে লাগান। সাথি ফসল হিসেবে জমিতে আদা রোপণ করেন। ছয় মাস পর ১৩ হাজার টাকার পেঁপে ও আদা বিক্রি করেন। প্রথমবারের আয় ও অবশিষ্ট টাকা সংগ্রহ করে ২৩ শতক জমি কেনেন। পরের বছর ওই জমিতেও পেঁপে ও সাথি ফসল আদা চাষ করে এক লাখ ৪৪ হাজার টাকা আয় করেন। ওই টাকা দিয়ে ৪৯ শতক জমি কিনে সেখানেও পেঁপে ও আদার চাষ করেন।
সাথি ফসলের আবাদ করে কৃষক আমির বর্তমানে সাড়ে আট বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। বর্তমানে ওই সাড়ে আট বিঘা জমির ৪৯ শতকে পেঁপে ও হলুদ, ৬৩ শতকে কুমড়া ও শসা, ৫৪ শতকে ধান, ১০ শতকে ধনচে, ২০ শতকে কচু ও টমেটো, ১৬ শতকে পটোল ও আদা, ৩২ শতকে কাঁচা মরিচ ও আদা, ৮ শতকে নেপিয়ার ঘাস, ১৪ শতকে আখ ও ১০ শতকে লেবু চাষ করছেন। এ ছাড়া ৫৪ শতক বসতভিটায় রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফল ও ঔষধি গাছ।
তিনি জমিতে কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদনে ১৫ লিটার পানিতে ১৫ ফোঁটা কেরোসিন তেল ও বিশকাঁঠাল নামের এক প্রকার গাছের রস মিশিয়ে সেপ্র করে পোকা দমন করেন। এ ছাড়া বোরো জমিতে পানি নির্ণয়পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এ জন্য তিনি এক বিঘা জমির চারদিকে ফুটো করা প্লাস্টিকের ছয়টি বোতলের অর্ধেক অংশ ছয় ইঞ্চি গভীর করে স্থাপন করেন। বোতলের অংশে পানি থাকলে জমিতে সেচ দেন না। এতে সহজেই সেচের খরচ কমানো যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহেল মো. শামসুদ্দিন বলেন, জমিতে বোতল রাখলে সেচ লাগবে কি না, তা সহজেই বোঝা যায়। আমির হোসেনের মতো কৃষিপদ্ধতি ব্যবহারে অন্য কৃষকেরাও উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
আমির হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর সহযোগিতা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতে একটি বৃহৎ গো-খামার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মীর আবদুর রাজ্জাক বলেন, পরিশ্রমে ধন আনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আমির হোসেন।