সারা দেশে দেবীর আরাধনায় মহাষ্টমী উদ্যাপিত

আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও মহা ধুমধামের সঙ্গে গতকাল বুধবার সারা দেশে উদ্যাপিত হয়েছে বাঙালি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন মহাষ্টমী। দেবীর আরাধনা ও অঞ্জলি গ্রহণের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয়েছে দিনটি। শাস্ত্রমতে, এই দিনে দেবী দুর্গা কুমারী রূপ ধারণ করে অসুররূপী শত্রু নিধনে মত্ত হন। তাই সারা দেশের রামকৃষ্ণ মিশনগুলোতে অষ্টমীর এই দিনে কুমারীপূজা আয়োজন করা হয়ে থাকে।
গতকাল মহাষ্টমীর দিন মন্দির আর পূজামণ্ডপগুলো ভরে ওঠে ঢাকের বাদ্য, মন্ত্রোচ্চারণ ও চণ্ডীপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে। দেবী দুর্গার আশীর্বাদ লাভের জন্য অঞ্জলি দিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমান ভক্তরা।
ষষ্ঠী ও সপ্তমীর চেয়ে গতকাল মহাষ্টমীতে পূজামণ্ডপগুলোতে দেবী দর্শনের জন্য দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের বিভিন্ন মণ্ডপ এলাকায় অস্থায়ী দোকানে ছিল শিশুদের খেলনা, তৈজসপত্র, মুড়ি-মুড়কি আর বিভিন্ন মিষ্টান্নের পসরা।
আজ বৃহস্পতিবার দুর্গাপূজার নবমী ও শুভ বিজয়া দশমী। তবে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে আগামীকাল শুক্রবার।
ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
সিলেটে মহা ধুমধামে উদ্যাপিত হয়েছে মহাষ্টমী। এ উপলক্ষে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলোতে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। গতকাল দল বেঁধে দর্শনার্থীরা নগর ও শহরতলির বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখেছেন। রাতে নগরের দাড়িয়াপাড়া, পনিটোলা, করেরপাড়া, কালীবাড়ি ও হাওলাদারপাড়া এলাকার পূজামণ্ডপে বাউলগানের আসর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
ফরিদপুরে রামকৃষ্ণ মিশনে গতকাল অষ্টমীর দিন বেলা ১১টায় কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর শহরের শ্রীঅঙ্গন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা হিরা গোস্বামী ও গৌতম গোস্বামীর আট বছরের মেয়ে গায়েত্রী স্বামীকে পূজা দেওয়া হয় এবার। এ উপলক্ষে শাস্ত্রমতে তার নাম দেওয়া হয়েছে কুঞ্জিকা। হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ সনাতন ধর্মাবলম্বী রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে সমবেত হন।
রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অরবিন্দ রায় বলেন, এ বছর দিয়ে ফরিদপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে চতুর্থবারের মতো কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হলো। কুমারী নির্বাচন করে বয়স অনুযায়ী তাকে শাস্ত্রমতে নাম দিয়ে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়েছে।
রাজবাড়ীতে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ, মানত করা, বিভিন্ন গান-বাজনার মধ্য দিয়ে পূজা উদ্যাপিত হয়। সেই সঙ্গে ছিল নাচ। প্রতিটি পূজামণ্ডপ এলাকায় অস্থায়ী দোকানে চলছে শিশুদের খেলনা, তৈজসপত্র, মুড়ি-মুড়কি আর বিভিন্ন মিষ্টান্নের পসরা। জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ৩৮৯ মণ্ডপে চলছে পূজা।
শেরপুরে সকাল থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হিন্দু ভক্তদের ঢল নামে। বিপুলসংখ্যক হিন্দু নারী-পুরুষ মহাষ্টমী পূজার পুণ্য তিথিতে বিশেষ প্রার্থনা ও অঞ্জলি প্রদান এবং প্রতিমা দর্শন করেন। পরে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে জাতীয় সংসদে সরকার-দলীয় হুইপ মো. আতিউর রহমান জেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
নড়াইলে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল শহরের মিতালি সংঘ, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন, টাউন কালীবাড়ি, রূপগঞ্জ বাজার কালীবাড়ি, বাঁধাঘাট মণ্ডপসহ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অষ্টমী পূজা ও কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি মণ্ডপে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ছিল উপচে পড়া ভিড়।