সীমান্ত এলাকার সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশ ও ভারতের স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তারক্ষী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা গতকাল রোববার বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের তিনটি স্থানে। দিনাজপুর, মৌলভীবাজার ও যশোরে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে সীমান্ত এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করা এবং এর সমাধানের উপায় ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কাঞ্চন সম্মেলন কক্ষে গতকাল সকাল ১০টায় থেকে শুরু হওয়া বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের নয়টি ও ভারতের ছয়টি জেলার কর্মকর্তারা। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর কবীর ও ভারতের পক্ষে জলপাইগুড়ির জেলার ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীমতী পৃথা সরকার।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ অংশের হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ত্বরান্বিত করা, অনুপ্রবেশ রোধ, মাদক ও চোরাচালান বন্ধ, বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ, বর্ডার হাট স্থাপনসহ প্রায় ২০টি বিষয় নিয়ে এবং সীমান্ত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার বিষয় ও সফলতা সম্পর্কে সোমবার (আজ) দুই দেশের যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হবে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি-রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে সম্মেলন শুরু হয় গত শনিবার বিকেলে। সীমান্তবর্তী চার জেলা বাংলাদেশের মৌলভীবাজার ও সিলেট এবং ভারতের কাছাড় ও করিমগঞ্জের জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার ছাড়াও বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সম্মেলনে অংশ নেন। বাংলাদেশের পক্ষে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান। আর ভারতের পক্ষে আট সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাছাড় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস বিশ্বনাথন।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, আজকের (রোববার) আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করে কাল (সোমবার) দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।
যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে গতকাল যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেন। বিকেলে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আলোচনায় যশোর, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তঘেঁষা ইছামতী ও কালিন্দী নদীর সীমান্ত চিহ্নিতকরণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার ও নির্মাণ, যৌথ সীমান্ত জরিপ ও নকশা তৈরি, স্থায়ী সীমানা পিলার নির্মাণ ও মেরামতের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন যশোরের জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবীর ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মন্মিতা নন্দী। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে সীমান্তে আর গুলির ঘটনা ঘটবে না বলে আমরা আশাবাদী।’