সুনীল গোমেজ হত্যায় অংশ নেয় ছয়জন

রাজীব গান্ধী
রাজীব গান্ধী

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া খ্রিষ্টানপল্লির ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজ হত্যা মামলায় গতকাল রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নব্য জেএমবির সামরিক প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী (৩৪)।
রাজীব গান্ধীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, পাঁচজনের পরিকল্পনায় ছয়জন সরাসরি অংশ নিয়ে সুনীল গোমেজকে হত্যা করে। এ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নব্য জেএমবি প্রধান তামীম চৌধুরী। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল দুপুরে রাজীব গান্ধীকে আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি নেওয়ার পর তাঁকে নাটোর কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নব্য জেএমবি কিলিং মিশন শুরু করেছিল। তারই অংশ হিসেবে নাটোরের কয়েকজনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। রেকি করে সুনীল গোমেজকে বাছাই করা হয়। এ জন্য একজন আগে থেকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন। আর ঘটনার দিন নাটোর ও সিরাজগঞ্জ শহর থেকে দুজন করে এবং ঈশ্বরদী থেকে একজন ঘটনাস্থলে যান। ঘটনার পর চারজন জেলার বাইরে চলে গেলেও বাকি দুজন কিছুদিন নাটোরেই ছিলেন।
পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, রাজীব গান্ধী নব্য জেএমবির সামরিক প্রধান ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি সুনীল গোমেজকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ ক্ষেত্রে আইএসের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু জানাননি রাজীব। তিনি বলেছেন, আইএসের দোষ স্বীকারের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ভিন্ন ধর্মের ব্যক্তিকে হত্যা করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করাই ছিল নব্য জেএমবির পরিকল্পনা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, হত্যার সঙ্গে জড়িত ১১ জনের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান, তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল হাই প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০১৬ সালের ৫ জুন বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় মুদি ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজকে (৭২) কুপিয়ে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যার দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।