জঠরে গুলিবিদ্ধ সুরাইয়ার একটি চোখ ভাল আছে

মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়ার বয়স আট মাস পার হয়েছে। ও এখন ভালো আছে। ডান চোখে সে দেখতে না পারলেও ওর বাম চোখ ভালো আছে।
গত বছরের ২৩ জুলাই মাগুরার দোয়ারপাড়ায় ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা পারভীন গুলিবিদ্ধ হন। ওই দিনই মাগুরা সদর হাসপাতালে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর তিনি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পেটের ভেতরে থাকা অবস্থাতেই গুলি শিশুটির পিঠ দিয়ে ঢুকে বুক দিয়ে বের হয়ে যায়। দুই দিন পর এই কন্যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া কন্যার নাম রাখেন সুরাইয়া। প্রায় এক মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বোর্ড গঠন করে মা ও সুরাইয়াকে সুস্থ করে তোলেন।
সুরাইয়া মা বাবার কোলে চড়ে ঢাকায় এসেছে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ আই হাসপাতালে সুরাইয়ার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সুরাইয়া বাড়ি ফিরে যাবে।
আজ সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়ের বয়স আট মাস পার হইছে। এমনিতে ভালোই আছে। খাওয়া, দাওয়া, ওজন সব ঠিক আছে। ওর একটা চোখ ভালো আছে। চিকিৎসক বলছেন, এক চোখে ও দেখতে পাবে না। তাই আর কেমনে ভালো থাকি?’
নাজমা পারভীনও জানালেন, ‘তাঁর শারীরিক অবস্থা ও মেয়ে ভালোই আছে। তবে চোখটা নিয়েই যা চিন্তা।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কানিজ হাসিনা শিউলি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সুরাইয়া এখন ভালো আছে। স্বাস্থ্যও ভালো হয়েছে। ওর বাম চোখ কিন্তু ভালো আছে।’
সুরাইয়ার চোখ পরীক্ষা করেছেন বাংলাদেশ আই হাসপাতালের চক্ষুরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট কাজী সাব্বীর আনোয়ার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রথমে সুরাইয়াকে যে অবস্থায় পেয়েছিলাম তখন চোখে দৃষ্টির জন্য যে আকৃতির দরকার তা ওর ছিল না। চোখটির আকৃতি অনেক ছোট ছিল। ল্যান্সে ছানি ছিল এবং তা জায়গা থেকে সরে গিয়েছিল। এখনো চোখটি ওই অবস্থাতেই আছে। তবে ওর আরেকটি চোখ ভালো আছে। এই চোখে ও যাতে কোনো ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, কোনো ভাবে যাতে চোখটিকে অবহেলা করা না হয় তার জন্য এখন মাকে এডুকেট করা বেশি জরুরি। মা যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন সবাইকে সে চেষ্টা করতে হবে। এক চোখ দিয়েও অনেকে অনেক কিছু করছে বা করা সম্ভব তা বুঝাতে হবে মাকে। এক চোখে দেখবে না তা না বলে বলতে হবে, আপনার মেয়ের একটি চোখ ভালো আছে।’