সেবাগুলো ডিজিটাল, তবে আংশিক, ভোগান্তি থাকছেই

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সেবা ডিজিটালে রূপান্তর করার কথা বলা হলেও তা আসলে পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। হয়েছে মূলত ‘কম্পিউটারভিত্তিক’।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সেবার অপ্রতুলতার কারণে রেলস্টেশনে এমন ভিড় লক্ষ করা যায়। গত ঈদুল ফিতরে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে
ছবি: প্রথম আলো

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) আছে। পাসপোর্টও আছে। এক দফা জন্মনিবন্ধনও করিয়েছেন। তারপরও মধ্যবয়সে এখন কাউকে কাউকে নতুন করে জন্মনিবন্ধন করাতে হচ্ছে। কারণ, সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য এখন মা–বাবার জন্মনিবন্ধন লাগছে। ২০১১ সালের আগে যাঁরা জন্মনিবন্ধন করেছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগের তথ্য এখন আর সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে নেই।

প্রশ্ন উঠেছে, যে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, পাসপোর্ট আছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে, তাঁর কেন আবার জন্মনিবন্ধনের ভোগান্তিতে যেতে হবে। সহজেই জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার, পাসপোর্টের তথ্যভান্ডার অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যভান্ডার থেকে যাচাই করে ব্যক্তির জন্ম, পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য জেনে নেওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি নানা সেবা ডিজিটালে রূপান্তর করার কথা বলা হলেও তা আসলে পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। যেটা হয়েছে, সেটাকে শুধু কম্পিউটারভিত্তিক সেবা বা ‘কম্পিউটারাইজড সার্ভিস’ বলা যেতে পারে। কেউ কেউ একে আংশিক ডিজিটাল সেবাও বলছেন।

সেবাগুলো কম্পিউটারভিত্তিক বা আংশিক ডিজিটাল হওয়ায় আংশিক সুফল পাওয়া গেছে। কিন্তু সরকারি সেবা নিতে মানুষকে এখনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাড়তি ব্যয় করতে হয়।

টাকা অনলাইনে দেওয়া যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে সার্ভারে কিছুটা সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগারগাঁও কার্যালয়ে দিনে ১ হাজার ২০০ জনকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা আছে।
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধূরী, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

পাসপোর্ট

পাসপোর্ট করতে হলে শুরুতে আবেদন করতে হয়। আবেদন অনলাইনে করা যায়। তবে অনলাইনে আবেদনের ছাপা অনুলিপি (প্রিন্ট কপি) সঙ্গে নিতে হয়। থাকতে হয় পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রসিদ। টাকা জমা দেওয়ার ডিজিটাল ব্যবস্থা আছে। তবে অভিযোগ আছে, প্রায়ই তা কাজ করে না।

প্রাথমিক কাজ শেষে নথিপত্র নিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গেলে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং ছবি তুলতে হয়। এরপর মুঠোফোনে খুদে বার্তায় জানা যায় কবে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। নির্ধারিত দিনে গেলে পাওয়া যায় পাসপোর্ট। তবে সমস্যা হলো, প্রতিটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। এ কারণে অনেকেই দালালের দ্বারস্থ হন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে গত ২৫ মে গিয়ে দেখা যায়, এরশাদুল ইসলাম নামের একজন সেবাগ্রহীতা বাইরে অপেক্ষায় রয়েছেন। ভেতরে তাঁর স্ত্রী পাসপোর্ট আনতে গেছেন। তিনি জানান, কোনো দালাল না ধরে নিজেরাই সাধারণ শ্রেণিতে প্রায় দেড় মাস আগে আবেদন করেছিলেন। অনলাইনে আবেদন করলেও ডিজিটাল ব্যবস্থায় ফি জমা দিতে পারেননি। আর সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা ১টায় ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে গত বুধবার পাসপোর্ট বুঝে (ডেলিভারি) পাওয়ার লাইন অধিদপ্তরের পাশের বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবনের সামনে পর্যন্ত ঠেকেছিল। ভবনের বাইরে সারিতে মানুষ ছিল আড়াই শ জনের মতো। লাইনটি শুরু হয়েছিল ভবনের ভেতর থেকে। দুপুরে হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি নামে। নিজেদের বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে অপেক্ষারত সেবাগ্রহীতারা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, টাকা অনলাইনে দেওয়া যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে সার্ভারে কিছুটা সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগারগাঁও কার্যালয়ে দিনে ১ হাজার ২০০ জনকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা আছে। কিন্তু গ্রাহক আসেন দিনে ১০ হাজার। বাড়তি চাপ নিয়ে জমা ও বিতরণ মিলিয়ে পাঁচ হাজার গ্রাহককে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। ঢাকায় আরও দুটি অফিস করার চিন্তা চলছে বলে জানান তিনি।

অবশ্য সেবাগ্রহীতারা বলছেন, পাসপোর্টের জন্য ছবি তুলতে যাওয়া মানে পুরো একটি কর্মদিবস ব্যয় করে আসা। অধিদপ্তর গ্রাহককে জানিয়ে দিতে পারে যে দিনের কোন সময়টিতে যেতে হবে। যেমন কাউকে বলা হলো সকাল নয়টায় যেতে, কাউকে বলা হলো দুপুর ১২টায় যেতে। এতে একসঙ্গে ভিড় হবে না। মানুষের সময় বাঁচবে। পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে সেটা গ্রাহকের ঠিকানায় কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও ভাবা যেতে পারে।

সদিচ্ছা, জ্ঞান ও উদ্দেশ্য ঠিক থাকলে এত দিনে পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেবাদান সম্ভব হতো। ডিজিটাল করার মানে মানুষের জন্য সহজ ও ভোগান্তিহীন সেবার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা মানুষের জন্য জটিল হয়েছে।
সুমন আহমেদ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ

ড্রাইভিং লাইসেন্স

দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ধাপ দুটি। প্রথম ধাপ হলো শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নেওয়া। দ্বিতীয় ধাপ মূল লাইসেন্স নেওয়া।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অনলাইন সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি সার্ভিস পোর্টাল চালু করেছে। সেখানে লাইসেন্স নেওয়ার নিয়মকানুন বলা আছে। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনেই পাওয়া যায়। তবে মূল লাইসেন্স পেতে সেবাগ্রহীতাকে তিন দিন বিআরটিএর কার্যালয়ে যেতেই হয়। প্রতিবারই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি রয়েছে।

বিআরটিএর কার্যালয়ে দালালেরা গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সহজে কাজ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। যাঁরা দালালের মাধ্যমে কাজ করাতে ইচ্ছুক নন, তাঁদের ভোগান্তির শেষ নেই।

উন্নত দেশগুলোতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া কী, কতটা সহজ, তা জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি সাইদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পাসপোর্ট নম্বর অথবা বায়োমেট্রিক কার্ডের নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হয়। অনলাইনে আবেদন করে একটি শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন রকম পরীক্ষা দিতে হয়, যা পুরোটাই অনলাইনে। তবে এক দিন সশরীর পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে ৪০ মিনিটের একটি ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হয়।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দুই থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে মূল লাইসেন্স কার্ড আবেদনকারীর ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, নাগরিককে যেন এক দিনই যেতে হয় এবং পরীক্ষার ফল অনলাইনে যাতে পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। বিভিন্ন ধরনের সনদ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাচাইপ্রক্রিয়ার জন্য এসব দরকার হচ্ছে। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে তাঁদের এখনো সমন্বয় হয়নি। ফলে এই তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে তাঁরা যাচাই করতে পারেন না।

জন্মনিবন্ধন আইন আগে হয়েছে এবং বিষয়টি আইনে রয়েছে। তাই সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য মা–বাবার জন্মনিবন্ধন সনদ লাগছে।
পলাশ কান্তি বালা, সংস্থা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়–জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল

জন্মনিবন্ধন

জন্মনিবন্ধনের ক্ষেত্রে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আঞ্জুমান আরার ভোগান্তির কথাই উল্লেখ করা যাক। এই নারী নিজের সন্তানকে একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে গেলে সেখান থেকে শিশুটির জন্মনিবন্ধন সনদ চাওয়া হয়। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সন্তানের জন্মনিবন্ধন করাতে তাঁকে ও তাঁর স্বামীর জন্মনিবন্ধন সনদ লাগবে। তাঁদের দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, পাসপোর্ট আছে—এসব কোনো কাজে লাগবে না।

যা-ই হোক, তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ। স্বামী-স্ত্রী দুজনে অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের আবার ছাপানো অনুলিপি বা প্রিন্ট কপি নিয়ে যেতে হবে। তাই প্রিন্ট করাতে গেলেন স্থানীয় একটি দোকানে। ছাপানো অনুলিপির সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে তিনি গেলেন সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে। সব মিলিয়ে তিন দিন সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে তিনি সনদ হাতে পান।

আঞ্জুমান আরা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ও তাঁর স্বামী ২০০৮ সালে জন্মনিবন্ধন করিয়েছিলেন। আবার নতুন করে ডিজিটাল জন্মসনদ করাতে হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমাদের দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরও জন্মনিবন্ধন কেন প্রয়োজন হচ্ছে? আর একবার তো করেছিলাম, আবারও কেন করতে হবে?’

শুধু নতুন করে জন্মনিবন্ধন নয়, সাধারণ একটি ভুল সংশোধনে রাজধানীর বাসিন্দা ফাতেমা আহমেদকে দুবার যশোর যেতে হয়েছে। সনদটি তিনি যশোরে করিয়েছিলেন।

ফাতেমা আহমেদের বয়স ষাটের কাছাকাছি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার ডিজিটাল সনদ দেবে বলে খুশি হয়েই তা করিয়েছিলাম। পরে দেখি একটি অক্ষর ভুল। সেই ভুল সংশোধন করতে গিয়ে এই বয়সে বারবার দৌড়াতে হলো।’

ভুলটি সংশোধনের জন্য পৌরসভা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দৌড়াতে হয়েছে উল্লেখ করে ফাতেমা আহমেদ বলেন, ‘এই সেবাকে ডিজিটাল কেন বলে, মাথায় আসে না।’

সন্তানের জন্মনিবন্ধন করাতে মা–বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরও কেন নতুন করে তাঁদের জন্মনিবন্ধন সনদ লাগছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়–জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল পলাশ কান্তি বালা গত মার্চে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, জন্মনিবন্ধন আইন আগে হয়েছে এবং বিষয়টি আইনে রয়েছে। তাই সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য মা–বাবার জন্মনিবন্ধন সনদ লাগছে।

অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মানুষের ভোগান্তি দূর করতে আইন সংশোধন করা দরকার। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ট্রেনের টিকিট

ঈদ এলেই কমলাপুর রেলস্টেশনের চিরাচরিত চিত্র—হাজার হাজার মানুষের গভীর রাত থেকে টিকিটের অপেক্ষা। গত ঈদুল ফিতরেও টিকিট কাটতে গিয়ে ভোগান্তির চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল।

যাত্রীরা বলছেন, ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটার দুটি সমস্যা। প্রথমত, ঈদের সময় চাপ বেশি হলে ওয়েবসাইটে ঢোকা যায় না। দ্বিতীয়ত, বড় ছুটির সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে লেখা দেখা যায়, ‘নট অ্যাভেইলেবল’ বা টিকিট নেই।

এ ছাড়া রেলের টিকিট কাটার পর তা প্রিন্ট করে কেন নিতে হবে, সেই প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ। গত মার্চ মাসের আগেই অনলাইনে কাটা টিকিটের ডাউনলোড কপি মুঠোফোনে দেখালেই চলত।

‘অনেক কিছু সহজ করা যায়’

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। এরপর নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি সেবা সহজ করে মানুষের ভোগান্তি কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নেওয়া ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে নেওয়ার সময় এখন এসেছে। এ জন্য সব সেবা আরও কার্যকরভাবে ডিজিটালে রূপান্তর করতে হবে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের কাছে নাগরিকদের একটি তথ্যভান্ডার আছে। সরকারের সব সংস্থার যদি তাতে অভিগম্যতার সুযোগ থাকে, তাহলে নাগরিক সেবা পেতে গেলে বারবার প্রাথমিক তথ্য দেওয়ার দরকার হয় না। জাতীয় পরিচয়পত্রে যদি আঙুলের ছাপ থাকে তাহলে লাইসেন্স করতে গেলে আবার ছাপ নেওয়ার দরকার নেই। এমন অনেক কিছুই সহজ করা যায়।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সদিচ্ছা, জ্ঞান ও উদ্দেশ্য ঠিক থাকলে এত দিনে পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেবাদান সম্ভব হতো। ডিজিটাল করার মানে হচ্ছে মানুষের জন্য সহজ ও ভোগান্তিহীন সেবার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা মানুষের জন্য জটিল হয়েছে।

সুমন আহমেদ আরও বলেন, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিহীন সেবা দিতে ডিজিটালে রূপান্তরের দিকে যেমন জোর দিতে হবে, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও বাড়ানো দরকার। যেমন পাসপোর্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট পরিমাণ বুথ তৈরি করা হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।