সেমাই, পোলাও আর গানে বন্দীদের ঈদ

ঈদ মানে আনন্দ। সেই আনন্দের ঢেউ লেগেছিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেও। কারও ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পথে, কারও চলছে বছরের পর বছর সাজা। সবকিছু ভুলে ঈদ আনন্দে মেতেছিলেন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে ভিআইপি রাজনীতিবিদও। এক কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করেছেন ঈদের নামাজ। কয়েকজন সুর মিলিয়ে গেয়েছেন গানও।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. ছগির মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, শ্রেণিভিত্তিক বন্দীদের কারাগারে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাখা হয়। কিন্তু সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। মুসলমানদের ঈদে ভিন্নধর্মাবলম্বী অনেক বন্দী গেয়েছেন গানও। ভাগাভাগি করেছেন ঈদের আনন্দ। এতে বন্দীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে উঠবে, যা কারাগারে বিশৃঙ্খলা রোধে সহায়ক হবে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দী আছেন চার হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার বন্দী মুসলমান। কিন্তু ঈদের দিন সকালে অন্য ধর্মাবলম্বীসহ সব বন্দীকে দেওয়া হয় সেমাই ও মুড়ি। ওই দিন কারা অভ্যন্তরে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন সাবেক সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম, ডিভিশনপ্রাপ্ত পাঁচ ভিআইপি বন্দী, জেএমবির সামরিক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শিবির নাছির, সরোয়ার, ম্যাক্সনও। নামাজ শেষে সবাই কোলাকুলি করেন। দুপুরে বন্দীদের খেতে দেওয়া হয় ভাত, আলুর দম ও ইলিশ মাছ। রাতে পোলাও, মাংস, পান-সুপারি ও মিষ্টি পরিবেশন করা হয় বন্দীদের মাঝে। ঈদের পরদিন বুধবার সকালে কারাগারের কেইস টেবিলে আয়োজন করা হয় সংগীতানুষ্ঠানের। এতে সংগীত পরিবেশন করেন ১৫ জন বন্দী।
এঁদের একজন বিশ্বজিৎ দাশ। বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি গান করেন ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান। আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।’ তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান কেইস টেবিলের সামনে থাকা হাজার হাজার বন্দীও।
এদিকে ঈদের দিন সকাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবারও কারাগারের সাক্ষাৎকক্ষে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ভিড়। খুশির দিনে স্বজনকে এক নজর দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টাও অপেক্ষা করেছেন অনেকেই। তাঁদের একজন রাউজানের রোজি আক্তার। নারী নির্যাতন মামলায় তাঁর ভাই গিয়াস উদ্দিন তিন মাস ধরে কারাবন্দী। ভাইয়ের দুই সন্তানকে নিয়ে ঈদের দিন এসেছেন দেখা করতে। দুই ঘণ্টা পর সাক্ষাৎ মেলে ভাইয়ের।