সৈয়দ শামসুল হকের ৪টি উপন্যাস

আনারকলি সৈয়দ শামসুল হক
আনারকলি সৈয়দ শামসুল হক

এবারের বইমেলার প্রথমা প্রকাশন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের চারটি উপন্যাস প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে আনারকলি এই প্রথমবারের মতো গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলো। উপন্যাসটি সৈয়দ হক লিখেছিলেন ১৯৬৩ সালে।
আনারকলি উপন্যাসের পটভূমি বাংলার ভূখণ্ড নয়, সুদূর অমৃতসর ও লাহোর। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর দুটি ভূখণ্ডের একটি হয় ভারত, অন্যটি পাকিস্তানের অংশ। এই উপন্যাসের নায়ক নিসার আলী দাঙ্গায় বাস্তুচ্যুত হয়ে, দাঙ্গাকারীদের হাতে ছোট ভাই ও নিকট আত্মীয়স্বজনকে হারিয়ে অমৃতসর থেকে লাহোরে চলে আসে। এক জুতোর দোকানে সেলসম্যানের চাকরি নেয়।
থাকার জায়গা হয় ট্রাক ড্রাইভার দোস্ত মোহাম্মদের বাসায়। দিন, মাস, বছর অতিক্রান্ত হয়, কিন্তু দাঙ্গার স্মৃতি মন থেকে মোছে না নিসারের। তার মধ্যেই প্রেমে পড়ে সে দোস্ত মোহাম্মদের মেয়ে আমিনার। তবে নিসারের মনে ভয়, তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক দোস্ত মোহাম্মদ মেনে নেবে কি না! নিসারের সেই দ্বিধা দূর হয়, যখন আমিনার সঙ্গে তার বিয়ের প্রস্তাব দোস্ত মোহাম্মদ নিজেই দিয়ে বসে। এ কথা শোনার পর নিসারের খুশির শেষ নেই। এবং দোস্ত
মোহাম্মদ ‘উৎসব’ করে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার
ভাবনায় যখন মশগুল, তখনই এই উপন্যাসের মোড় ঘুরে যায়। নিসার লাহোরের মাটিতে দেখা পেয়ে যায় তার ছোট ভাইয়ের খুনিকে। সে দ্বিধাহীন চিত্তে
তাকে খুন করে ফেলে। ধরা পড়ে চলে যায় জেলে। কাহিনির এই বাঁকফেরা ঘটনা পাঠককে গভীরভাবে আলোড়িত করবে। হিন্দি, উর্দু ও পাঞ্জাবি সাহিত্যে দাঙ্গার ওপর যত উপন্যাস বিশেষত ছোটগল্প লেখা হয়েছে, সে তুলনায় বাংলা সাহিত্যে দাঙ্গার ওপর গল্প-উপন্যাস হাতে গোনা। সে বিচারে সৈয়দ শামসুল
হকের আনারকলি বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
বাকি দুটো উপন্যাস বালিকার চন্দ্রযান ও তুমি সেই তরবারি। বালিকার চন্দ্রযান-এ অভিবাসী বাঙালি তরুণ-তরুণীদের স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা আর ব্রিটিশদের হাতে তাদের লাঞ্ছনা ও অপমানের কথা আছে। লন্ডনে পড়তে গিয়ে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের কী সংকট হয়, প্রেম ও যৌনতা তাদের জীবনকে কীভাবে তাড়িত করে, তা তুলে ধরা হয়েছে তুমি সেই তরবারি উপন্যাসে।
সংগ্রহ করার মতো চারটি উপন্যাসই পাওয়া যাবে বইমেলায় প্রথমার প্যাভিলিয়নে।