স্পিডবোটে নেওয়া হচ্ছিল দ্বিগুণ ভাড়া, যাত্রীও ছিল বেশি: র্যাব
মাদারীপুরের শিবচরের কাছে পদ্মায় স্পিডবোট ডুবে ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় নৌযানটির মালিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র্যাব বলেছে, ওই দিন স্পিডবোটের যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। যাত্রীও ছিল ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি।
রোববার কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, স্পিডবোটের মালিক চাঁন মিয়া ওরফে চান্দু মোল্লা ওরফে চান্দুকে রোববার প্রথম প্রহরে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁন মিয়া জানিয়েছেন, স্পিডবোটটির ধারণক্ষমতা ছিল ২০ জন। সেখানে লকডাউনের মধ্যে দুর্ঘটনার সময় ওই স্পিডবোটে যাত্রী ছিলেন ৩২ জন। স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া দেড় শ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছিল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তা ছাড়া স্পিডবোটটির অনুমোদনও ছিল না।
র্যাব জানিয়েছে, চাঁন মিয়া তিনটি স্পিডবোটের মালিক। দুর্ঘটনাকবলিত স্পিডবোটটির মালিকানায় অংশীদার আছেন আরও একজন। তাঁর নাম জহিরুল হক। চাঁন মিয়া দুর্ঘটনার পর শিবচর থানায় হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। দুর্ঘটনার পর তিনি গা ঢাকা দেন।
৩ মে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট শিবচরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছিল। স্পিডবোটটি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের নিকটবর্তী পুরোনো কাঁঠালবাড়ি ঘাটের কাছাকাছি আসার পর বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
এতে স্পিডবোটটি উল্টে প্রাণ হারান ২৬ জন। স্পিডবোটের বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, শুরু থেকেই স্পিডবোটটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। বাল্কহেডটি থেমে ছিল, দ্রুতগতির স্পিডবোট সেটিকে ধাক্কা মারে।
লকডাউনের মধ্যে স্পিডবোট চালানোর জন্য মালিক কোনো পক্ষকে ঘুষ দিয়েছিলেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে।