স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন, কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন

ঈদের দিন সকালে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর থেকে এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা ও তল্লাশিচৌকি মোতায়েন থাকলেও সেখানকার পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসছে। ঘটনাস্থলের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা এবং স্থানীয় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
এদিকে শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহরের রংমহল চত্বরে জেলা ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও যুব ইউনিয়ন যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, এ হামলা একদিকে ইসলাম ধর্মের অবমাননা, অন্যদিকে শোলাকিয়ার শত শত বছরের ঐতিহ্য নষ্ট করার চক্রান্ত। দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিদের মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেখা যায়, শোলাকিয়ায় হামলাস্থলের কাছে আজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের আশপাশে এখনো পুলিশের প্রহরা রয়েছে। পুলিশের সদস্যরা ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকটি কক্ষে থাকছেন। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে। মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে। হামলাস্থলের পাশে মুন্সী আজিমউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও পুরোদমে শুরু হয়েছে। রোজা আর ঈদের টানা ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে গত রোববার।
৭ জুলাই ঈদের দিন সকালে আজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে তল্লাশিচৌকির কাছে পুলিশের ওপর জঙ্গি হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের দুই সদস্য, একজন সন্দেহভাজন জঙ্গি এবং ঝর্ণা রানী নামে স্থানীয় এক নারী মারা যান।
আজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন বলেন, তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৬৯৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ১১ জুলাই থেকে মধ্য বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঈদের দিনের ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের নয়টি কক্ষে পুলিশ অবস্থান করছে, যে কারণে পুলিশ প্রত্যাহার হওয়ার পর এখানে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হবে।
মসজিদে ইমামদের বক্তব্য নজরদারির সিদ্ধান্ত: শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে হামলার ঘটনায় তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস। ইউএনও সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে এতে তাড়াইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ভূঞাসহ রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, চাকরিজীবী ও মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে সভা-সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি মসজিদে মসজিদে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে ইমামরা আলোচনা করেন কি না এ ব্যাপারে নজরদারির তাগিদ দেওয়া হয়।