১১ আসামির খালাসে স্থগিতাদেশ বাড়ল

আওয়ামী লীগ নেতা ও গাজীপুরের সাবেক সাংসদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ১১ আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী রোববার পর্যন্ত বাড়িয়েছেন আপিল বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিপক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান। পরে খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছে, তা যথাযথ আকারে হয়নি বলে আদালত বলেছেন। তাই রোববার রাষ্ট্রপক্ষকে যথাযথভাবে আবেদন করতে বলা হয়েছে। ওই দিন পর্যন্ত আসামিদের খালাসের রায়ের স্থগিতাদেশও বহাল থাকছে।
গত ১৫ জুন আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাত আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাত আসামি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
হাইকোর্টে খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল (পলাতক), রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির (পলাতক), খোকন (পলাতক), লোকমান হোসেন ওরফে বুলু (পলাতক) ও দুলাল মিয়া (পলাতক)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস পান মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীর।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুন ১১ আসামিকে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তৎকালীন সাংসদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। সেদিন নিহত হন ওমর ফারুক রতন নামের আরেক ব্যক্তি। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।