২ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিলের রায় আজ

হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

সাতক্ষীরায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে দেড় যুগ আগে হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে করা দুই মামলা চলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার জানা যেতে পারে। ওই দুই আইনে অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে আসামিদের করা আপিলের ওপর আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ আসামিদের করা আপিল দুটি রায়ের জন্য কার্যতালিকার ২৬ ও ২৭ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

হামলার ঘটনায় করা মামলায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আসামি আলতাব হোসেনসহ অন্যরা ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৯ আগস্ট হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে মামলা দুটির কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন। আর পৃথক আপিলের ওপর রায়ের জন্য দিন রয়েছে।

আদালতে আলতাবসহ আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামিদের করা পৃথক আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৭ সালে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে মামলা দুটির কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন। এরপর অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা দুটির কার্যক্রম আর এগোয়নি। বিষয়টি জানার পর সম্প্রতি এ–সংক্রান্ত আপিল শুনানির জন্য উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। ১৫ ডিসেম্বর আপিল দুটির ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।’

ধর্ষণের শিকার হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরায় যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে আহত হন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাসহ স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাংবাদিক। ওই ঘটনায় কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন কলারোয়া থানায় মামলা করতে যান, তবে তা গ্রহণ করা হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য, ঘটনার এক যুগ পর ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা আদালতে নালিশি অভিযোগ করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ মে বিএনপির তৎকালীন সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে পৃথক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন হয়।

অভিযোগ গঠনের পর হত্যাচেষ্টা মামলাটি বাতিল চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেন রকিব ওরফে রাকিবুর রহমান নামের এক আসামি। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট রুল দিয়ে ওই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৮ অক্টোবর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ রায় দেন।

রুল খারিজ করে দেওয়া রায়ে সম্ভাব্য তিন মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এখন হত্যাচেষ্টা মামলাটির কার্যক্রম বিচারিক আদালতে চলছে।

হামলার ঘটনায় করা মামলায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে আসামি আলতাব হোসেনসহ অন্যরা পৃথক আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৯ আগস্ট হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে মামলা দুটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। থমকে যায় মামলা দুটির কার্যক্রম। আজ পৃথক আপিলের ওপর রায় হতে যাচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে মামলা দুটির কার্যক্রম চলবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।