২৬ শতাংশ শিশুর মৃত্যু সেপটিসেমিয়ায়

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছর ৬২২ শিশু মারা যায়। এর মধ্যে রক্তে সংক্রমণ বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সেপটিসেমিয়া রোগে মারা গেছে ১৬৪ শিশু। গত বছর হাসপাতালে যত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার ২৬ শতাংশই মারা গেছে এই রোগে। এ জন্য অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো চিকিৎসা নিতে না আসার কারণকেই দায়ী করেছেন চিকিৎসকেরা।
হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, মায়ের বুকের দুধের পরিবর্তে শিশুদের বিকল্প খাদ্য (ফিডার) দেওয়া হলে সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, তাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, সেপটিসেমিয়া রোগের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে শিশুদের জ্বর ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্টও থাকতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে বমি ও খিঁচুনি হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য ওয়ার্ড থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভাগে মোট ১৩ হাজার ৫৬৭ শিশু চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। এর মধ্যে সেপটিসেমিয়া রোগ নিয়ে ভর্তি হয় ৬৯০ শিশু। সুস্থ হয়ে ফিরে যায় ৫২৬ জন, বাকিরা মারা যায়। এনকেফালাইটিস ভাইরাস সংক্রমণে মারা গেছে ৮৪ জন। ব্রঙ্কো নিউমোনিয়ায় মারা যায় ৭১ জন, জন্মগতভাবে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার কারণে ৬১ জন এবং হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৪ জন শিশু মারা যায়। ১৬ জন শিশু মারা যায় লিউকেমিয়া রোগে।
শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন রোগ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মৃত্যুর হার ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে। যেসব শিশু মারা যায়, তাদের বেশির ভাগই সেপটিসেমিয়া ও এনকেফালাইটিসে আক্রান্ত। তিনি বলেন, সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের বেশির ভাগ দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসে। এটি মৃত্যুর অন্যতম কারণ। অনেক মা-বাবা সচেতন নন। যে কারণে বুকের দুধের পরিবর্তে শিশুদের ফিডার খাওয়ান। এতে ঝুঁকি বাড়ে।
শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, সেপটিসেমিয়া রোগ দ্রুত শনাক্ত করার জন্য বিভাগে একটি সেল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে লক্ষণ দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ছাড়া শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের জন্য একটি আইসিইউ ইউনিট করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।