৫৭ বছরের বায়তুল মোকাররম মসজিদ

ফেসবুকের ‘ঢাকা ৪০০ ইয়ার্স হিস্ট্রি ইন ফটোগ্রাফ’ পেইজে ফারুক রহমানের তোলা বায়তুল মোকাররমের পুরোনো এই ছবিটি পাওয়া যায় ।   বর্তমান ছবি, গতকাল বৃহস্পতিবার তোলা
ফেসবুকের ‘ঢাকা ৪০০ ইয়ার্স হিস্ট্রি ইন ফটোগ্রাফ’ পেইজে ফারুক রহমানের তোলা বায়তুল মোকাররমের পুরোনো এই ছবিটি পাওয়া যায় । বর্তমান ছবি, গতকাল বৃহস্পতিবার তোলা

ঢাকার পল্টনে অবস্থিত বায়তুল মোকাররম বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ। ১৯৬০ সালে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৬২ সালে কাজ মোটামুটি শেষ হয়। ইতিহাসবিদ শরীফ উদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত ঢাকা কোষ-এ বলা হয়েছে, পাকিস্তান আমলে সিন্ধুর স্থপতি এ এইচ থারানি এই মসজিদের নকশা প্রণয়ন করেন। পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তাঁর ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ঢাকায় বিপুল মুসল্লি ধারণক্ষমতার একটি বড় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় বাওয়ানি পরিবার। ১৯৫৯ সালে ‘বায়তুল মুকাররম মসজিদ সোসাইটি’ গঠনের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সূত্রে পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার মিলনস্থলে মসজিদটির জন্য প্রায় সাড়ে আট একর জায়গা নেওয়া হয়। ঢাকা কোষ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি লতিফ বাওয়ানি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। এখন বায়তুল মোকাররম মসজিদ আটতলা। নিচতলায় বিপণিবিতান ও গুদামঘর। দোতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত প্রতি তলায় নামাজ পড়া হয়। সব মিলিয়ে মুসল্লিরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের ১ লাখ ২৫ হাজার ৬২ বর্গফুট এলাকা ব্যবহার করেন। সব তলাতেই অজুর ব্যবস্থা আছে। মসজিদের দোতলা থেকে খতিব নামাজ পড়ান। তিনতলার উত্তর পাশে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা আছে। এই মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে মসজিদে প্রবেশ করা যায়। আল্লাহর ৯৯ নাম লিখে মসজিদটি সজ্জিত করা হয়েছে। মসজিদটির ভেতরে বেশ খোলামেলা এবং প্রচুর আলোবাতাসের ব্যবস্থা আছে। কেউ চাইলেই যেকোনো দিন মসজিদে এসে নামাজ পড়তে পারেন। রমজান মাসে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ বায়তুল মোকাররমে ইফতার করেন। প্রতি ঈদে নামাজ পড়তে আসেন লাখো মানুষ। সব মিলিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ ঢাকার গর্ব এবং পৃথিবীর সুন্দর মসজিদগুলোর একটি।
লেখা: শরিফুল হাসান। ছবি: হাসান রাজা।