'আমাদের মেধা শেকলে বাঁধা'

গায়ে কালো গাউন, আর তা সারা শরীর শেকলে বাঁধা। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁদের মেধাকে বয়সের সীমায় বেঁধে ফেলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, আগামী নির্বাচনের আগেই চাকরির বয়স সীমা বাড়ানো হোক। নয়তো তাঁরা সহিংস আন্দোলনের দিকে যাবেন।
সরকারি চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন দুটি সংগঠন। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ ও বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে আসা তরুণ-তরুণীরা বলছেন, শিক্ষাজীবনে দীর্ঘসূত্রতা ও সেশনজটসহ নানা সমস্যায় শিক্ষার্থীরা চাকরিতে বয়সসীমার ফাঁদে পড়েন। একজন শিক্ষার্থী খুব কম সময় পান পড়াশোনা শেষ করে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে প্রবেশ করার জন্য। তাই আগামী নির্বাচনের আগে চলতি অক্টোবর মাসেই চাকরির ন্যূনতম প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার প্রজ্ঞাপন জারির দাবি করছেন সংগঠন দুটির সদস্যরা।
মানববন্ধনে বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী সনদ পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের চাকরিতে বয়সসীমার দাবিটি যৌক্তিক। আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা সহিংস কোনো কিছু চাই না। তবে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে, অক্টোবরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।’
বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো. আল-আমিন রাজু বলেন, তাঁরা চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বা ৩৩ করলেও মানবেন না, ৩৫ বছরই করতে হবে।
এক ঘণ্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলী বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে খুব কম সময় পান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চাকরির বয়সসীমা কোথাও কোথাও ৫৫ পর্যন্ত আছে। অথচ আমাদের দেশে তা ৩০। এই বয়সসীমা আমাদের মেধাকে আটকে দিচ্ছে। আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।’