'ডাল ছাঁটাই পদ্ধতি'

মানসম্পন্ন আমের চারা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত ডগা বা সায়ন। প্রচলিত পদ্ধতিতে আমগাছ থেকে অধিকসংখ্যক মানসম্পন্ন সায়ন পাওয়া সম্ভব হয় না এবং সংগৃহীত সায়নের সবগুলো জোড়া লাগে না। খাটুনি ও সময়ের অপচয় হয়।
কিন্তু গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের (প্রুনিং) মাধ্যমে অধিকসংখ্যক সায়ন উৎপাদন করা সম্ভব। বইপত্র ঘেঁটে এ তথ্য পান চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। এরপর তাঁরা সাত বছর ওই তথ্যটি বাস্তবে প্রয়োগ করে অধিকসংখ্যক চারা উৎপাদন করে আমচাষিদের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।
অধিকসংখ্যক মানসম্পন্ন চারা উৎপাদনের জন্য আম গবেষণা কেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে মাতৃবাগান। এই মাতৃবাগানে ওই পদ্ধতি প্রয়োগ করে চারার জন্য সংগ্রহ করা হয় সায়ন। সাত বছর থেকে ওই কেন্দ্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দীন বলেন, শংকরায়ণের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয় ‘বারি-৪’ নামের নতুন জাতের আম। জাতটি ২০০৩ সালে অবমুক্ত করা হয়। এই আম দেরিতে পাকে এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। এ কারণে এই জাতের আমের চারার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। তাঁরা চারার জন্য আম গবেষণা কেন্দ্রে ধরনা দিতে থাকেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে চারা তৈরির জন্য গড়ে তোলা হয় ‘বারি আম-৪’-এর মাতৃবাগান। তখন চাহিদা অনুযায়ী ব্যাপকসংখ্যক সায়ন সংগ্রহ করা যাচ্ছিল না। এরপর বইপত্র ঘেঁটে তথ্য পান, গাছের ডাল ছাঁটাই করে অধিকসংখ্যক মানসম্পন্ন ডগা বা সায়ন পাওয়া সম্ভব। এরপর সাত বছর থেকে তাঁরা ওই পদ্ধতি প্রয়োগ করে অধিকসংখ্যক চারা উৎপাদন করে আসছেন।
জমির উদ্দীন জানান, ডাল ছাঁটাইয়ের পর ওই স্থানে বোর্দো পেস্টের (২৫০ গ্রাম তুঁত ও ২৫০ গ্রাম চুন এক লিটার পানিতে মিশিয়ে তৈরি হয় বোর্দো পেস্ট) প্রলেপ দিতে হবে। গাছের গোড়ায় দিতে হবে ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া, ২০০ গ্রাম টিএসপি, ১৫০ গ্রাম এমপি সার ও দুই-তিন টুকরা পচা গোবর। এরপর দিতে হবে সেচ। দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই বের হবে কুশি। প্রচুর কুশি বের হলে পাতলা করে দেওয়া ভালো। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে জোড়কলম চারায় ব্যবহারের উপযুক্ত সায়ন পাওয়া যাবে।