'দুর্নীতি রোধে মূল্যবোধ ও সচেতনতা দরকার'
শুধু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একার পক্ষে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়। এর জন্য সর্বস্তরে মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে। এমনটাই মনে করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে দুদকের পক্ষ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুজ্জামান এ কথা বলেন।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা গেলে সেটা বেশি কাজে দেয়। আমরা যদি আমাদের শুভবুদ্ধি, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারি, তাহলে দুর্নীতি দমন নিয়ে যে নানা প্রশ্ন রয়েছে, তা দ্বিতীয় স্তরে নেমে আসবে।’
দুদকের কর্মকর্তারা উচ্চ নৈতিকতার পরিচয় দেবেন—এমন প্রত্যাশা করে এ শিক্ষাবিদ বলেন, দুদককে কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চাই। কমিশনের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা উচ্চ নৈতিকতার পরিচয় দিতে পারলে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও কাজ করার সাহস পাবেন। তিনি বলেন, যত বেশি মানুষের মনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা যাবে, দুর্নীতির ক্ষেত্র ততটাই সংকুচিত হয়ে আসবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘ভয় দিয়ে কোনো কিছু জয় করা যায় না। আমি মনে করি, দুদককে বাঘের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। যারা দুর্নীতিবাজ, কেবল তারাই দুদককে ভয় পাবে। আমি বিশ্বাস করি, ভয় দিয়ে নয়, সম্মান ও সততা দিয়ে দুর্নীত প্রতিরোধ করতে হবে।’ সবাই মিলে একই প্রক্রিয়ায় কাজ না করলে দুর্নীতি স্থায়ীভাবে কমানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল, দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) শামসুল আরেফিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ১১৭ জন সদস্যকে সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হিসেবে নরসিংদী কমিটি, ময়মনসিংহ বিভাগে ময়মনসিংহ জেলা কমিটি ও সিলেট বিভাগে সিলেট জেলা কমিটিকে শ্রেষ্ঠ কমিটি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।